আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলাদেশের ক্ষমতায় বিএনপি। দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে আর কোনও বাধা রইল না তারেক রহমানের। ঐতিহাসিক সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ জয় নিশ্চিৎ। প্রায় দুই দশক পর বাংলাদেশের সরকারে শাসক দলের পরিবর্তন হচ্ছে। প্রায় সাড়ে তিন দশক পর  বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসবেন একজন পুরুষ। 

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ শাসনের পতনের পর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ভোট প্রতিবেশী দেশটিতে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে চারটেয় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই গণনা শুরু হয়। প্রাথমিক গণনা থেকে জানা যায় যে, ৩০০ সদস্যের সংসদে সরকার গঠনের জন্য ম্যাজিক ফিগার অনায়াসে অতিক্রম করেছে।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২০৯টি আসন পেয়েছে। ফলে তারেক রহমানের দল জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।

সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে যে, বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১৫০ আসনের সীমা অতি দ্রুত পেরিয়ে গিয়েছে।

২০২৪ সালে যুব সমাজের নেতৃত্বে পরিচালিত বিদ্রোহের জেরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উৎখাত করা হয়। তারপর এই নির্বাচন ছিল প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

হাসিনা দেশ ছাড়া। এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিষেধাজ্ঞা ছিল আওয়ামী লীগের উপর।  ফলে এই নির্বাচনে মূলত সরাসরি লড়াই হয় বিএনপি এবং তাদের প্রাক্তন বন্ধু জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে

বাংলাদেশের নির্বাচনের ফলাফল থেকে ১০টি মূল বিষয়

১. বিএনপি নিরঙ্কুশ জয়ের দিকে এগিয়েছে
বিএনপি একটি নির্ণায়ক জয়ের দিকে এগিয়ে আছে বলে মনে হচ্ছে, একাধিক গণমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী দলটি ৩০০ আসনের সংসদে ১৫১টিরও বেশি আসন জিতেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২০৯টি আসন জিতেছে।

২. বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমান জয়ী
বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে দলটির প্রধান তারেক রহমানকে জয়ী বলে ঘোষণা করা হয়েছে। 

৩. তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে প্রস্তুত
বিএনপি আগেই ঘোষণা করেছিল যে, ক্ষমতায় এলে খালেদা পুত্র তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। ১৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্ব-নির্বাসনের পর ডিসেম্বরে বাংলাদেশে তাঁর প্রত্যাবর্তন একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন।

৪. জামাত-ই-ইসলামী পরাজয় মেনে নিয়েছেন
এদিকে, জামাত-ই-ইসলামির প্রধান শফিকুর রহমান পরাজয় মেনে নিয়ে বলেছেন যে, তাঁর দল বাধাদানকারী "বিরোধী দলের রাজনীতি" করবে না। তিনি বলেন, "আমরা ইতিবাচক রাজনীতি করব।"

৫. ভোটের পাশাপাশি ব্যাপক সংস্কারের উপর গণভোট
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদ নামে পরিচিত ৮৪-দফা সংস্কার প্যাকেজের উপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রস্তাবগুলিতে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা, শক্তিশালী বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা এবং নির্বাহী ক্ষমতার উপর বর্ধিত নিয়ন্ত্রণ অন্তর্ভুক্ত ছিল। সংস্কারের পক্ষে মানুষের সমর্থন ছিল। যদিও আনুষ্ঠানিক ফলাফলের জন্য অপেক্ষা।

৬. অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পদত্যাগ করবে
২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ শাসনের পতনের পর বাংলাদেশ শাসনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল মহম্মদ ইউনূসকে। তাঁর নেতৃত্বে ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের স্থলাভিষিক্ত হতেই এই নির্বাচন। নির্বাচন চলাকালীন, ইউনূস জাতীয় স্বার্থে সকল পক্ষকে শান্ত এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

৭. ব্যাপক নিরাপত্তা মোতায়েন
দেশব্যাপী ৪২,০০০-এরও বেশি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ তদারকি করার জন্য প্রায় দশ লক্ষ নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল, যা দেশের নির্বাচনী ইতিহাসের সর্ববৃহৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

৮. ভোটারদের ভোটদান এবং অংশগ্রহণ
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন যে, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টো পর্যন্ত ৪২,৬৫১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৬,০৩১টি কেন্দ্রে ৪৭.৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে। রয়টার্স স্থানীয় গণমাধ্যমের অনুমান উদ্ধৃত করে জানিয়েছে যে, ভোটদানের হার ৬০ শতাংশের বেশি হতে পারে, যা আগের নির্বাচনে রেকর্ড করা ৪২ শতাংশের চেয়ে বেশি।

৯. ২০০০-এরও বেশি প্রার্থী ভোটগ্রহণে অংশ নিয়েছেন
নির্দল প্রার্থী-সহ ২০০০-এরও বেশি প্রার্থী ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে একটি আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছিল।

১০. বিএনপির প্রার্থনার ডাক, কোনও বিজয় সমাবেশ নেই
বিজয়লাভের পূর্বাভাস সত্ত্বেও, বিএনপি সমর্থকদের উদযাপন মিছিল না করার আহ্বান জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে, দলটি দেশের কল্যাণের জন্য মসজিদ, মন্দির, গির্জা এবং প্যাগোডায় বিশেষ প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছে।

বাংলাদেশ যখন নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণের অপেক্ষায়, তখন বিএনপির এই বিপুল জয় সেই দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

বিএনপি পরবর্তী সরকার গঠন এবং সাংবিধানিক সংস্কারের জন্য প্রস্তুত থাকায়, বছরের পর বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা শেষে এই ভোট  বাংলাদেশে এক নতুন পর্বের সূচনা এবং তথাকথিত "বেগমদের যুদ্ধ" যুগের সমাপ্তির ইঙ্গিত।