আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রায় দু'দশক পর পদ্মাপারের মসনদে ফিরছে বিএনপি। ওপার বাংলার প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন তারেক রহমান। গণনায় বিষয়টি প্রায় নিশ্চিৎ হতেই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছাবার্তা পৌঁছল তারেক রহমানের কাছে। নরেন্দ্র মোদি জোর দিয়ে বলেছেন যে, ভারত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে।

সমাজ মাধ্যম এক্স-এ প্রথমে ইংরেজি ও পরে বাংলায় পোস্ট করে তারেক রহমানকে "উষ্ণ অভিনন্দন" জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, 'বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপিকে নির্ণায়ক জয়লাভের জন্য আমি জনাব তারেক রহমানকে আমার উষ্ণ অভিনন্দন জানাচ্ছি। এই জয় আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণের আস্থার প্রতিফলন। ভারত একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পক্ষে তার সমর্থন অব্যাহত রাখবে। আমাদের বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং আমাদের অভিন্ন উন্নয়নের লক্ষ্যগুলি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিপ্রায়ে আপনার সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রত্যাশা রাখছি।'

বিদেশমন্ত্রী (ইএএম) এস জয়শঙ্করও এক্স-এ প্রধানমন্ত্রী মোদির বার্তা ফের পোস্ট করেছেন।

তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জিন খাড়গেও। এক্স পোস্টে তিনি লিখেছেন, 'বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে জয়লাভের জন্য আমি ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জনাব তারেক রহমান এবং বিএনপিকে অভিনন্দন জানাই। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি এবং অন্যান্য অনেক মিলের গভীর বন্ধন রয়েছে। আমাদের অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য সকল ভারতীয় সর্বদা একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করবে।'

৩০০ আসনের বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভোটে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বিএনপি। সেদেশের সংবাদ মাধ্যমের পরিসংখ্যান থেকে জানা যাচ্ছে যে, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার ১৫১-র বেশি আসনের জয়ী হয়েছে দলটি। তবে নির্বাচন কমিশন এখনও চূড়ান্ত ফলাফলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি।

এক্স-এ এক বিবৃতিতে, বিএনপির মিডিয়া সেল জানিয়েছে যে, সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন জয়ের পর তারা পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য প্রস্তুত।

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সেদেশের শাসনভার গ্রহণ করে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ১৮ মাস এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছিল। এই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে এবার বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসছে নির্বাচিত নয়া সরকার। ফলে আশা করা হচ্ছে যে, গণতান্ত্রিক রীতিনীতি বজায় থাকবে। যা তারেককে শুভেচ্ছাবার্তায় মনে করিয়ে দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিএনপি এবং তার প্রাক্তন মিত্র জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় এই নির্বাচনে। জুলাই জাতীয় সনদ নামে পরিচিত ৮৪-দফা সংস্কার এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্যও গণভোট হয়।  

বিএনপি সরকার গঠন করলে, তারেক রহমান ৩৬ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম পুরুষ প্রধানমন্ত্রী হবেন। ১৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্ব-নির্বাসিত থাকার পর ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরে আসা তারেক রহমান দলীয় কর্মীদের বিজয় সমাবেশ এড়িয়ে দেশব্যাপী বিশেষ প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।