আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থা অ্যাপল সোমবার ঘোষণা করেছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সংস্থার বর্তমান সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন টিম কুক। তাঁর জায়গায় সংস্থার নতুন সিইও হবেন দীর্ঘদিনের কর্মকর্তা জন টার্নাস।

এই ঘোষণার পর ৬৫ বছর বয়সী কুকের উত্তরসূরি নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান হল। কুক জানিয়েছেন, তিনি সিইও পদ ছাড়ার পর সংস্থার বোর্ডের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এক বিবৃতিতে কুক বলেন, ‘অ্যাপলের সিইও হিসেবে কাজ করা এবং এমন একটি সংস্থার নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান।’

১৯৯৮ সালে অ্যাপলে যোগ দেন কুক। ধাপে ধাপে উন্নতি করে তিনি চিফ অপারেটিং অফিসার পদে পৌঁছান। আইফোন নির্মাতা এই সংস্থার জটিল সাপ্লাই চেন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০১১ সালে সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জোবস অসুস্থতার কারণে সরে দাঁড়ালে কুক সিইওর দায়িত্ব নেন।

তাঁর সময়কালে অ্যাপল বিশ্বজুড়ে তাঁদের পণ্যের পরিধি বাড়িয়েছে। শেয়ার মূল্যের ভিত্তিতে সংস্থার মূল্য প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

সংস্থার বিদায়ী চেয়ারম্যান আর্থার লেভিনসন বলেন, ‘টিমের অসাধারণ নেতৃত্ব অ্যাপলকে বিশ্বের সেরা সংস্থায় পরিণত করেছে। তাঁর সততা ও মূল্যবোধ সংস্থার প্রতিটি কাজে ধরা পড়েছে।’ জানা গিয়েছে, আর্থার ভবিষ্যতে বোর্ডের লিড ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।

নতুন সিইও জন টার্নাস ২০০১ সালে অ্যাপলের প্রোডাক্ট ডিজাইন টিমে যোগ দেন। পরবর্তী দুই দশকে হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হন। আইফোন, আইপ্যাড, অ্যাপল ওয়াচ এবং ম্যাক কম্পিউটারের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা রয়েছে।

টার্নাস বলেন, ‘অ্যাপলের মিশনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আমার কর্মজীবনের প্রায় পুরোটাই এখানে কেটেছে। স্টিভ জোবসের অধীনে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি এবং টিম কুককে মেন্টর হিসেবে পেয়েছি।’

উল্লেখ্য, চলতি বছর অ্যাপল তাদের প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতির যুগে সংস্থার সামনে নতুন উদ্ভাবনের চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে।

১৯৭৬ সালের ১ এপ্রিল ক্যালিফোর্নিয়ার কুপার্টিনোতে স্টিভ জোবসের গ্যারেজে যাত্রা শুরু করা অ্যাপল, স্টিভ ওজনিয়াকের সহায়তায় প্রযুক্তি ব্যবহারের ধরনই বদলে দেয়। ম্যাক, আইফোন, অ্যাপল ওয়াচ ও আইপ্যাডের মতো পণ্য আজও বিশ্বজুড়ে বিপুল জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে।