আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শীঘ্রই দ্বিতীয় দফার আলোচনা হতে চলেছে। ইতিমধ্যেই, ইসলামাবাদে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পাকিস্তান আবারও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় সামনে আসছে বলে ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদ সূত্রে খবর মিলেছে। সূত্রের খবর, দুই পক্ষের মধ্যে পরবর্তী দফার আলোচনা নিয়ে প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
দুই পক্ষই ইসলামাবাদ অথবা নিরপেক্ষ স্থান হিসেবে জেনেভায় বৈঠক করতে সম্মত হয়েছে। যদিও আয়োজন সংক্রান্ত বিষয় এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবুও আগামী দু’দিনের মধ্যেই আলোচনা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠকে এখনও পর্যন্ত পর্দার আড়াল থেকে ভূমিকা পালন করে গিয়েছে পাকিস্তান। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ইসলামাবাদ ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত শান্তি ফিরিয়ে আনতে চাইছে।
নিজেদেরও শান্তিপ্রিয় দেশ বলেও বিশ্বের কাছে নতুন করে পরিচিতি তুলে ধরতেও মরিয়া হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। জানা গিয়েছে, এই নতুন উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে দুই পক্ষেরই একটি ‘সমাধান’ খোঁজার আগ্রহ।
ওয়াশিংটনের সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত এই সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে কূটনৈতিক সাফল্যের কৃতিত্ব নিতে চান, বিশেষত মে মাসে তার নির্ধারিত চীন সফরের আগে।
ফলে এই তৎপরতা রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, ইরান আলোচনায় আগ্রহ দেখালেও বেশ কিছু শর্ত রেখেছে। দুই পক্ষই এক ধরনের ‘উইন-উইন’ সমাধানের পথে এগোতে চাইছে।
সদ্য ইসলামাবাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে চলতি সংঘাত বন্ধ করা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু তা সম্পূর্ণ বিফলে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এবার এক রিপোর্ট সূত্রে সামনে এল, যুক্তরাষ্ট্রের একটি শর্তের গেরোয় আটকেই বিফলে গিয়েছে গোটা আলোচনা। জানা গিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব দিয়েছিল, ইরানের কাছে মজুত থাকা ইউরেনিয়াম যেন আগামী ২০ বছরে কোনওভাবে ব্যবহার না করা হয়।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানায়, ‘যুক্তরাষ্ট্র কমপক্ষে ২০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম স্থগিতাদেশের প্রস্তাব দিয়েছিল। সঙ্গে ছিল আরও নানা ধরনের কঠোর শর্ত।’
এতে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, তেহরানের পারমাণবিক ঘাঁটি নিয়ে ওয়াশিংটন কতটা চিন্তিত। অন্যদিকে, ইরান এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে অনেক কম সময়সীমার প্রস্তাব দেয়।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান মাত্র পাঁচ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সংক্রান্ত কর্মসূচি স্থগিত করার প্রস্তাব দেয়। অ্যাক্সিওস জানায়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্য, বিশেষ করে তেহরান সম্পূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে কি না এবং তাদের বর্তমানে মজুত থাকা ইউরেনিয়াম কী করা হবে সেই বিষয়গুলির মতপার্থক্যেই আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি।
জানা গিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধিরা ইরানে মজুত থাকা ইউরেনিয়াম দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানায়। এর বিপরীতে, ইরান প্রস্তাব দেয় ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক স্তরের তদারকিতে ইউরেনিয়াম কমানো হবে।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইয়ান ব্রেমার মঙ্গলবার জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান প্রায় ১২.৫ বছরের একটি সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে। তবে তিনি এই তথ্যের উৎস বা বিস্তারিত কিছু জানাননি।
















