আজকাল ওয়েবডেস্ক: দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে আফগানিস্তান সোমবার দাবি করেছে যে তারা পাকিস্তানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে। কাবুলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, এই অভিযান ছিল সাম্প্রতিক পাকিস্তানি বিমান হামলার জবাব।

আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এক্সে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানায়, আফগান বিমানবাহিনী পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নূর খান এয়ারবেস (রাওয়ালপিন্ডি), খাইবার পাখতুনখোয়ার মোহমন্দ এজেন্সির Khwazai Camp, এবং কোয়েটায় অবস্থিত 12th Division of Pakistan Army-এর সদর দপ্তর।

কাবুলের দাবি, পাকিস্তানি বাহিনী সম্প্রতি কাবুল ও বাগরাম-এ বিমান হামলা চালিয়েছিল। সেই হামলার জবাব হিসেবেই আফগান বাহিনী এই অভিযানে নেমেছে। প্রাথমিক মূল্যায়নে লক্ষ্যবস্তুগুলিতে “উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি” হয়েছে বলে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি। বিবৃতিতে আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে, আফগান আকাশসীমা লঙ্ঘন বা যেকোনও ধরনের আগ্রাসনের জবাব ভবিষ্যতেও “দ্রুত, দৃঢ় এবং সমানুপাতিকভাবে” দেওয়া হবে। আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লা মুজ়াহিদ রীতিমত হুংকার দিয়েছেন, 'আমরা হাত গুটিয়ে বসে না থেকে ওদের টুঁটি চেপে ধরতে পারি'। 

এই ঘোষণার কয়েকদিন আগেই ইসলামাবাদ আফগান তালিবান প্রশাসনের সঙ্গে পরিস্থিতিকে কার্যত “খোলাখুলি যুদ্ধ” বলে বর্ণনা করেছিল। সীমান্তে সংঘর্ষের জেরে উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং শুক্রবার পাকিস্তান কাবুল ও কান্দাহারে বিমান হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আফগান বাহিনী সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানি সেনাদের উপর হামলা চালায় বলে দাবি করা হয়েছে। আফগানিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম TOLO News জানিয়েছে, তালিবান প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী পাল্টা অভিযানে ৩২ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে।

আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, এই অভিযানে তাদের 203 Mansouri Corps, 201 Silab Corps এবং 205 Al-Badr Corps অংশ নেয়। কাবুলের দাবি, অভিযানে আরও ১০ জন পাকিস্তানি সেনা আহত হয়েছে এবং চারটি সামরিক চৌকি ধ্বংস করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উপমুখপাত্র সেদিকুল্লাহ নাসরাত জানান, আফগান বাহিনী পাকতিয়া, খোস্ত, নাঙ্গারহার এবং কান্দাহার প্রদেশে অভিযানে “লেজার অস্ত্র ও উন্নত সামরিক সরঞ্জাম” ব্যবহার করেছে। তাঁর দাবি, দুটি পাকিস্তানি সামরিক ড্রোনও গুলি করে নামানো হয়েছে।

রাওয়ালপিন্ডির কাছে অবস্থিত নূর খান এয়ারবেস পাকিস্তান বিমানবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয়, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের অপারেশন সিঁদুর অভিযানের সময়ও এই ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল, যার পরে সেখানে মেরামতির কাজ চলেছিল বলে জানা যায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে এবং সীমান্ত অঞ্চলে আরও সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের মত।