আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিজ্ঞানীরা অ্যান্টার্কটিকার এমন একটি এলাকা পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পেয়েছেন, যা সেরা প্রযুক্তি ব্যবহার করেও এতদিন দুর্গম ছিল। এটি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়নি। হারিয়ে যাওয়া একটি রোবট অপ্রত্যাশিতভাবে আবার আবির্ভূত হয়ে ডেনম্যান হিমবাহের নীচের অংশের গোপন রহস্য উন্মোচন করেছে। এই সামুদ্রিক রোবটটিকে টটেন হিমবাহ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু এটি শেষ পর্যন্ত ডেনম্যান হিমবাহের নীচে চাপা পড়ে যায়।
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা সিএসআইআরও এই রোবটটিকে টটেন হিমবাহের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কী প্রভাব পড়ছে, তা খোঁজার উদ্দেশ্যে তৈরি করেছিল। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল, অ্যান্টার্কটিকার এই নির্দিষ্ট হিমবাহটি গলে গেলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা কতটা বাড়তে পারে, তা জানা। কিন্তু এটি পথ হারিয়ে ফেলে এবং আর ভেসে ওঠেনি। তবে এটি এক আশীর্বাদ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। কারণ, এটি ডেনম্যান হিমবাহ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছিল। ন’মাস পর রোবটটি এই বরফপিণ্ড এবং অ্যান্টার্কটিকার উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে প্রচুর তথ্য নিয়ে আবার ভেসে উঠেছে।
রোবটটি ডেনম্যান হিমবাহ এবং শ্যাকলটন বরফ স্তরের নীচে আটকা পড়েছিল। কিন্তু সেই সময়েও রোবটটি নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করে গিয়েছে। এটি সমুদ্রতল থেকে বরফ স্তরের ভিত্তি পর্যন্ত জলের লবণাক্ততা এবং তাপমাত্রা পরিমাপ করেছিল। এটি পৃষ্ঠে উঠে আসারও চেষ্টা করেছিল, কিন্তু প্রতিবারই রোবটটি বরফ স্তরে ধাক্কা খায় এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে এর গভীরতা পরিমাপ করে ফেলে। গবেষকরা যখন বরফ স্তরের গভীরতার তথ্য ওই এলাকার স্যাটেলাইট পরিমাপের সঙ্গে তুলনা করেন, তখন তারা বুঝতে পারেন এটি কোন দিকে গিয়েছিল এবং কোথা থেকে তথ্য পাঠিয়েছিল।
রোবটটি জানিয়েছে যে শ্যাকলটন বরফস্তরটি আপাতত কোনও বিপদে নেই। তবে, ডেনম্যান হিমবাহের নীচে উষ্ণ জল রয়েছে এবং এর ফলে এটি গলতে শুরু করেছে। যদি এটি গলে যায়, তাহলে বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট বেড়ে যেতে পারে। রোবটটি যে তথ্য পাঠিয়েছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটিই পূর্ব অ্যান্টার্কটিকার একটি বরফস্তরের নীচে সমুদ্রবিদ্যা সংক্রান্ত বিষয়ে জানার জন্য প্রথম তথ্য সরবরাহ করেছে। অ্যান্টার্কটিকার এই অঞ্চলে পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার চেয়ে বেশি বরফ রয়েছে, এবং এখানকার হিমবাহ গলে গেলে তা বিশ্বের জন্য আরও বেশি বিপজ্জনক হতে পারে।
ডিসেম্বর ২০২৫-এ ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই রোবটটি ছিল একটি মুক্তভাবে ভাসমান যন্ত্র। স্রোতের টানে সেটি গন্তব্য থেকে পথভ্রষ্ট হয়ে যায়। লবণাক্ততা ও তাপমাত্রার মতো সেন্সর-সহ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যযুক্ত এই রোবটটিকে জলের নীচে গিয়ে প্রতি ১০ দিন অন্তর একবার উপরে উঠে উপগ্রহে তথ্য পাঠানোর জন্য তৈরি করা হয়েছিল। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমবাহের উপর কী প্রভাব পড়ছে, তা গবেষণার জন্য এটি একটি প্রচলিত পদ্ধতি।
