আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রকৃতি কখনও কখনও এমন সব অস্বাভাবিক সংকেত দেয়, যা মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় এবং সমুদ্রের গভীর অজানা পরিবর্তন—এসবই বড় বিপদের ইঙ্গিত হতে পারে। নিচে তুলে ধরা হল এমন ছয়টি ‘ডুমসডে’ সংকেত, যেগুলো নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।


১. দ্রুত গলতে থাকা ‘ডুমসডে গ্লেসিয়ার’
অ্যান্টার্কটিকার Thwaites Glacier, যাকে ‘ডুমসডে গ্লেসিয়ার’ বলা হয়, দ্রুত হারে গলছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এটি ভেঙে পড়লে বিশ্বের সমুদ্রপৃষ্ঠ কয়েক ফুট পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এতে উপকূলীয় বহু শহর ও দ্বীপরাষ্ট্র মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।


২. আর্কটিকের বরফ হ্রাস
উত্তর মেরু অঞ্চলে সমুদ্রবরফের পরিমাণ গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। Arctic অঞ্চলের বরফ গললে সূর্যালোক প্রতিফলন কমে যায়, ফলে আরও দ্রুত উষ্ণায়ন ঘটে—যাকে ‘ফিডব্যাক লুপ’ বলা হয়। এটি বিশ্বের আবহাওয়ার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।


৩. চরম তাপপ্রবাহ ও দাবানল
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রেকর্ড তাপমাত্রা ও ভয়াবহ দাবানল বেড়েই চলেছে। দীর্ঘস্থায়ী খরা কৃষি উৎপাদন কমিয়ে খাদ্যসংকটের ঝুঁকি বাড়ায়। একই সঙ্গে তাপপ্রবাহ জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।


৪. প্রবাল প্রাচীরের ধ্বংস
সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও অম্লতা বেড়ে যাওয়ায় প্রবাল প্রাচীর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। Great Barrier Reef-এ একাধিকবার ব্যাপক ‘ব্লিচিং’ দেখা গেছে। প্রবাল ধ্বংস হলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ক্ষতির মুখে পড়ে এবং উপকূলীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


৫. গভীর সমুদ্রের দানবীয় মাছের আবির্ভাব
সম্প্রতি গভীর সমুদ্রের বিরল ও ভয়ংকরদর্শন কিছু মাছ উপকূলের কাছে ভেসে উঠেছে, যা অনেকের কাছে অশনি সংকেত বলে মনে হয়েছে। যদিও বিজ্ঞানীরা বলছেন, সমুদ্রের তাপমাত্রা ও স্রোতের পরিবর্তনের কারণে এসব প্রজাতি অস্বাভাবিক স্থানে চলে আসতে পারে, তবু এটি সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।


৬. পারমাফ্রস্ট গলে মিথেন নিঃসরণ
উত্তর গোলার্ধের পারমাফ্রস্ট বা চিরহিমায়িত মাটি দ্রুত গলছে। এতে বিপুল পরিমাণ মিথেন গ্যাস বায়ুমণ্ডলে মুক্ত হচ্ছে, যা কার্বন ডাইঅক্সাইডের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস। এই প্রক্রিয়া বিশ্ব উষ্ণায়নকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।

 


বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সংকেত পৃথিবীর তাৎক্ষণিক সমাপ্তির ঘোষণা নয়, বরং সতর্কবার্তা। জলবায়ু পরিবর্তন রোধে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঝুঁকি বহুগুণ বাড়বে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ—এই পথেই সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব।