আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাকিস্তানের মাটি থেকে পাওয়া গেল ভারতীয় সভ্যতার নিদর্শন। পাকিস্তানের রাওলপিন্ডিতে ভূতত্ববিদরা মাটির নিচ থেকে পেয়েছেন ২০০০ হাজার বছরের পুরনো মুদ্রা। এরপই জানা গিয়েছে এগুলি সবই নাকি কুষাণ যুগের। তক্ষশীলাতে এই ধরণের মুদ্রা পাওয়া গিয়েছিল বলেই খবর মিলেছে। 


এই কয়েনগুলি রাজা বাসুদেবের সময়কার বলেই জানা গিয়েছে। তিনি কুষাণ যুগের অন্যতম সেরা শাসক ছিলেন। ফলে পাকিস্তানের মাটিতেও যে ভারতীয় সভ্যতার ছাপ এখনও রয়েছে সেকথা ফের একবার প্রমাণিত হল। কয়েকজনের মতে, এই মুদ্রাগুলি আরও প্রাচীন হতে পারে। গবেষকরা মনে করছেন এগুলি দিয়ে সেই সময় বাণিজ্য করা হত।


ইতিহাসবিদরা মনে করছেন এগুলি খ্রীষ্টপূর্ব ষষ্ট শতকের হতে পারে। তবে অনেকে মনে করছেন কুষাণ যুগ দ্বিতীয় শতকে ছিল। তাই এই মুদ্রাগুলির বয়স আরও বেশি। তবে পাকিস্তানের মাটি থেকে রাজা বাসুদেবের এই মুদ্রাগুলি কুষাণ যুগের বিশেষ সময়কে নির্দেশ করছে। সেই সময় পাকিস্তান বলে কিছুই ছিল না। তখন পুরোটাই ছিল একটি সাম্রাজ্য। তাই তার নিদর্শন এখনও রয়েছে। 


ইতিহাসবিদরা মনে করছেন একসময় ভারত, ইরানি, গ্রিক এবং বৌদ্ধ সভ্যতা একসঙ্গে গোটা এশিয়াতে রাজত্ব করত। এই আবিষ্কার সামনে আসার পর সেই দাবি অনেক বেশি জোরালো হয়েছে। 
গবেষকদের মতে, তক্ষশীলাতে ল্যাপিস লাজুলির উপস্থিতি প্রমাণ করে যে এই অঞ্চলটি মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে বিস্তৃত দীর্ঘ দূরত্বের বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কের অংশ ছিল। প্রাচীন “রয়্যাল হাইওয়ে” দ্বারা মৌর্য রাজধানি পাটলিপুত্রের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। এর অর্থ, এই দুই অঞ্চলের মধ্যে বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান ছিল। তবে এখন পর্যন্ত বিহারে তক্ষশীলার মুদ্রা পাওয়া যায়নি। 

&t=2s


এই সমস্ত প্রমাণ ধর্মীয় বহুত্ববাদ এবং কুষাণ আমলে এর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বকে তুলে ধরে। প্রত্নতাত্ত্বিক নথি থেকে জানা যায় যে, কুষাণ শাসকদের সময় বিশেষত কানিষ্ক মহারাজের শাসনে তক্ষশীলা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। শুধু তাই নয়, এই সময়ে রাজ্যটি বৌদ্ধ ধর্মের প্রসার, বাণিজ্যের উন্নয়ন এবং গন্ধার শিল্পের বিকাশকে সক্রিয়ভাবে উৎসাহ দেয়। গন্ধার শিল্পে গ্রিক, পারস্য, রোমান এবং ভারতীয় শিল্পের সম্মিলিত প্রভাব ছিল, যা এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যকে অনন্য করে তুলেছিল। এই সময়ে ভারতীয় সভ্যতা বিশেষ উচ্চতায় ছিল। ফলে তার ছাপ এখনও রয়েছে সেকথাই ফের একবার দেখা গেল পাকিস্তানের মাটিতে।