আজকাল ওয়েবডেস্ক: যোগীরাজ্যে রক্ষকই ভক্ষক। রেললাইনের ধারে ১৪ বছরের কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল এক পুলিশ আধিকারিক ও ইউটিউবারের বিরুদ্ধে। এখনও পর্যন্ত অভিযুক্ত ইউটিউবারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পলাতক পুলিশ আধিকারিকের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের কানপুরে। বৃহস্পতিবার পুলিশ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতেই ১৪ বছরের এক কিশোরী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। গণধর্ষণের অভিযোগে এক ইউটিউবারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত এক পুলিশ আধিকারিক পলাতক। তাঁর খোঁজে তল্লাশি অভিযান চলছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, নির্যাতিতা কিশোরী সপ্তম শ্রেণির ড্রপআউট। রাত দশটা নাগাদ তাকে স্করপিও গাড়িতে তুলে রওনা দেন অভিযুক্তরা। এরপর রেল লাইনের ধারেই নির্জন এলাকায় ঘণ্টা দুয়েক ধর্ষণ করেন। মধ্যরাতে অচৈতন্য অবস্থায় বাড়ির সামনে নির্যাতিতা কিশোরীকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান অভিযুক্ত ইউটিউবার ও পুলিশ আধিকারিক।
পুলিশ জানিয়েছে, গণধর্ষণের অভিযোগের ভিত্তিতে সাব-ইনস্পেক্টর অমিত কুমার মৌর্য এবং ইউটিউবার শিববরণ যাদবের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত শুধুমাত্র ইউটিউবারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্করপিও গাড়িটিও পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকের খোঁজে চার সদস্যের পুলিশের টিম তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।
কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় পুলিশ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকায়, ঘটনাটি ঘিরে অভিযোগ দায়ের করেনি শুরুতে। পুলিশ কমিশনার রঘুবীর লাল কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে একাধিক পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করেছেন।
গত বছর এপ্রিল মাসেই এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। বিয়েবাড়িতে হইহুল্লোড়ে মেতেছিলেন সকলে। আচমকাই অনেকের কানে ভেসে আসে এক নাবালিকার চিৎকার। তড়িঘড়ি সকলে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। নাবালিকাকে উদ্ধারের পরেই, ভয়ঙ্কর অত্যাচারের বর্ণনা শুনে আঁতকে উঠেছিলেন তাঁরা। বিয়েবাড়ির মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছিল আট বছরের এক নাবালিকা।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছিল উত্তরপ্রদেশের বরেলিতে। পুলিশ জানিয়েছে, বিসারতগঞ্জ থানার অন্তর্গত এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ২৪ এপ্রিল ওই এলাকারই একটি বিয়েবাড়িতে আটবছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে সোমবার ৪৭ বছরের অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্ত জেল হেফাজতে রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সেদিন পরিবারের সঙ্গে এক আত্মীয়ের বিয়েতে এসেছিল নাবালিকা। খাবারের লোভ দেখিয়ে ভিড়ের মধ্যে থেকে নাবালিকাকে ফাঁকা ঘরে নিয়ে যান অভিযুক্ত। সেখানেই তাকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান। নাবালিকার চিৎকার শুনে ছুটে আসে পরিবার। এরপরই ধর্ষণের ঘটনাটি জানতে পারে। সেদিন রাতে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে নির্যাতিতার পরিবার।
অভিযোগের ভিত্তিতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ। এরপর অভিযুক্তকে সেই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেরায় নাবালিকাকে ধর্ষণের ঘটনাটি স্বীকার করে নেন অভিযুক্ত।
