আজকাল ওয়েবডেস্ক: আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের (এএমইউ) একজন সিনিয়র অধ্যাপিকা অভিযোগ করেছেন যে, তিনি প্রায় তিন দশক ধরে ধর্মীয় বৈষম্য এবং মানসিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, এই ধারাবাহিক চাপের কারণে তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এমনকী তাঁর গর্ভপাতও হয়েছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রচনা কৌশল অভিযোগ করেছেন যে, তিনি হিন্দু হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাঁকে নিশানা করেছিলেন। তিনি উপাচার্যের কাছে অডিও রেকর্ডিং এবং নথি-সহ একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং বলেছেন যে- তিনি এই বিষয়ে একটি এফআইআর দায়ের করার পরিকল্পনা করছেন।

অধ্যাপক রচনা কৌশলের কথায়, ১৯৯৮ সালে লেকচারার হিসেবে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে-তে যোগদানের পরপরই এই হয়রানি শুরু হয়। তিনি বলেন, "আমার নিয়োগের অল্প সময়ের মধ্যেই বৈষম্য এবং মানসিক হয়রানি শুরু হয়। আমি কখনও ভাবিনি যে একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার ধর্মীয় পরিচয়কে আমার বিরুদ্ধেই ব্যবহার করা হবে।"

রচনা কৌশলের অভিযোগ, এই চাপ বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকে এবং তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়গুলোতে তা আরও তীব্র হয়। ২০০৪ সালে, যখন তাঁর গর্বভে দুই যমজ সন্তান ছিল, তখন তাঁকে অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং মানসিক চাপের শিকার হতে হয়, ফলে তাঁর গর্ভপাত হয়। অধ্যাপক কৌশল আরও জানান যে, তাঁর স্বামী, এএমইউ-এর জেএন মেডিকেল কলেজের সিনিয়র অধ্যাপক ড. ডি.কে. পান্ডে ২০১২ সালে মারা যান।

এই অধ্যাপিকা সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের বর্তমান ডিন অধ্যাপক মহম্মদ নাফিস আহমেদ আনসারির বিরুদ্ধেও তাঁর ধর্ম নিয়ে বারবার মন্তব্য করার অভিযোগ তুলেছেন রচনা কৌশল অভিযোগ করেন যে, "ডিন আমাকে বলেছেন, ‘আপনি হিন্দু, বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে যান।’  তিনি আরও দাবি করেন যে হিন্দু শিক্ষকরা ইচ্ছাকৃতভাবে মুসলিম শিক্ষার্থীদের পড়ানো এড়িয়ে চলেন এবং সম্মেলনে তাদের কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।"

রচনা বলেন, “এই মন্তব্যগুলো ব্যক্তিগতভাবে অপমানজনক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ন করে।” তিনি আরও বলেন যে, এই ধরনের মন্তব্য একটি প্রতিকূল কর্মপরিবেশ তৈরি করেছে। অধ্যাপক রচনা কৌশল কুমন্তব্যগুলোর অডিও রেকর্ডিং প্রমাণ হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক নাইমা খাতুনের কাছে জমা দিয়েছেন।

হয়রানির অভিযোগ সত্ত্বেও, অধ্যাপক রচনা কৌশল বলেন যে, পরিস্থিতি উন্নত হবে এই আশায় তিনি বছরের পর বছর ধরে শিক্ষকতা চালিয়ে গিয়েছেন। তবে, এখন তিনি বিশ্বাস করেন যে- আইনি পদক্ষেপই সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ। তিনি বলেছেন যে, বিষয়টি জনসমক্ষে আনতে এবং পুলিশের কাছে যেতে চান।

এএমইউ কর্তৃপক্ষ অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় বা অভিযুক্ত শিক্ষক সদস্যের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।