আবু হায়াত বিশ্বাস: ভোটের মুখে বড় ধাক্কা খেল কেন্দ্রের মোদি সরকার। সংসদে বিল পাশ করাতে ব্যর্থ নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ। মহিলা সংরক্ষণ এবং লোকসভায় আসনবৃদ্ধি সংক্রান্ত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল লোকসভায় ভোটাভুটি পাশ করাতে পারল না সরকার। ভোটাভুটিতে দেখা গেল বিলের পক্ষে ২৯৮টি ভোট পড়ে এবং বিপক্ষে ২৩০টি। মোট ৫২৮ জন সাংসদ ভোট দিয়েছিলেন এদিন। সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে প্রয়োজন ছিল ৩২৬টি ভোটের। যা জোগাড় করতে ব্যর্থ মোদি-শাহরা। ভোটাভুটিতে বিলটি পাশ করাতে না পারায় সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু সংশ্লিষ্ঠ বিলটি নিয়ে আর না এগোনোর কথা জানিয়েছেন। এবং এই বিলগুলি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
বিরোধী শিবির ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় সরকার পক্ষ চাইলেও সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিলটি পাশ করাতে ব্যর্থ হয়েছে। এদিন বিরোধীদের নিশানা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মহিলাদের সংরক্ষণের বিরোধী বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। সেই সঙ্গে জনসংখ্যা বৃদ্ধির যুক্তি দিয়ে সংসদ সংখ্যা বাড়ানোর জোরদার সওয়ালও করেন। বিরোধীদের উদ্দেশে জানান, ‘আমাদের উপর ভরসা রাখুন। এই সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করতে দিন।’ তবে সংখ্যা না থাকায় বিল পাশ করাতে ব্যর্থ হয় সরকার। সংসদে বিরোধীদের জয় হওয়ার পর লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, ‘এটি ছিল সংবিধানের ওপর একটি আক্রমণ, এবং আমরা তা প্রতিহত করেছি, যা একটি ভাল বিষয়। আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি যে এটি কোনও মহিলা বিল নয়; এটি ভারতের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী কাঠামো পরিবর্তনের একটি প্রচেষ্টা। আমরা তা থামিয়ে দিয়েছি। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলছি যে, আপনি যদি মহিলাদের সংরক্ষণ চান, তাহলে ২০২৩ সালের মহিলা সংরক্ষণ বিলটি আনুন এবং আজই তা কার্যকর করুন। সমগ্র বিরোধী দল আপনাকে শতভাগ সমর্থন করবে এবং আমরা অবিলম্বে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করব।’
কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও বলেন, ‘এটা মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে ছিল না; এটা ছিল গণতন্ত্র এবং দেশের অখণ্ডতা নিয়ে। আমরা কখনোই এটা মেনে নিতে পারি না যে, আপনি মহিলা সংরক্ষণকে এমনভাবে আসন পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে যুক্ত করবেন, যা পুরোনো জনগণনার ওপর নির্ভরশীল, যেটিতে ওবিসিদের অন্তর্ভুক্তই করা হয়নি। এই বিলটি পাস হওয়া সম্ভব ছিল না। এটি দেশের গণতন্ত্র ও তার অখণ্ডতার জন্য একটি বড় জয়।’
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রিয়াঙ্কা বলেছেন, ‘যারা হাথরসে কিছু করেনি, যারা উন্নাওতে কিছু করেনি, যারা মণিপুরের নারীদের জন্য কিছু করেনি, যারা খেলোয়াড়দের জন্য কিছু বলেনি... তারাই বলছে যে আমাদের মানসিকতা নারী-বিরোধী!’উল্লেখ্য, এদিন রাহুল গান্ধীর নিশানায় ছিল কেন্দ্রের মোদি সরকার।
বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া সংসদের তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে তিনটি বিল পাশ করাতে সক্রিয় ছিল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়ালের পেশ করা তিনটি বিলের প্রথমটি— লোকসভা এবং বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভায় মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল ( পোশাকি নাম, ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’। লোকসভার সাংসদ সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করার বিষয়টি এরই অন্তর্গত), দ্বিতীয়টি— লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) সংক্রান্ত বিল। তৃতীয়টি— কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল (কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে আসনবৃদ্ধির উদ্দেশ্যে)। এই তিন বিলই এদিন ভোটাভুটিতে খারিজ হয়ে যায়।















