আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্নানঘরের দরজা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ। স্নান করতে ঢুকে আর বেরোননি স্বামী। কয়েক ঘণ্টা পর জানা যায়, স্নানঘরে দমবন্ধ হয়েই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন যুবক। স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়েই মানসিক চাপে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হলেন স্ত্রী।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে। সোমবার পুলিশ জানিয়েছে, স্নানঘরে গিয়েই অঘটন ঘটে স্বামীর। গ্যাস গিজার লিক করে দমবন্ধ হয়ে স্বামীর মৃত্যু হয়। স্বামীর মৃত্যুর খবর সহ্য করতে না পেরে আত্মঘাতী হন স্ত্রী।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে বেঙ্গালুরুতে বেট্টানাগেরে এলাকায়। বাড়িতেই স্নানঘরে গ্যাস গিজার লিক করে। তখন স্নানঘরে ছিলেন পেশায় গাড়িচালক বি রাজ। স্নানঘরে স্নান করতে ঢুকেই দমবন্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন রাজ। নিমেষের মধ্যে মর্মান্তিক পরিণতি হয় তাঁর।
সেই সময় বাড়িতে ছিলেন না তাঁর স্ত্রী মীনা (৩৫)। তিনি ব্যাঙ্কের কর্মী। কর্মক্ষেত্রেই ছিলেন তখন।
পুলিশ জানিয়েছে, রাজের মৃত্যুর খবর ফোন করে মীনাকে জানিয়েছিলেন তাঁর ছেলে। স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন স্ত্রী। এমনকী বাড়িতেও যাননি। শ্মশানে স্বামীর শেষকৃত্যের সময়েও ছুটে যাননি। কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে অবশেষে থানায় মধ্য রাতে মায়ের নিখোঁজ ডায়েরি করেন তাঁর ছেলে তরুণ।
মীনার তল্লাশি অভিযান শুরু করে পুলিশ। সেই রাতেই গ্রামের কাছে মীনার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে তারা। স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে মীনা আত্মঘাতী হন। থানায় দু'টি ঘটনার পৃথক মামলা রুজু হয়েছে। জোরকদমে চলছে তদন্ত।
প্রসঙ্গত, গত বছর মার্চ মাসে এমন মর্মান্তিক ঘটনা আরও একটি ঘটেছিল। চুটিয়ে মজা করেছিলেন হোলিতে। আত্মীয়, প্রতিবেশীদের সঙ্গে রং খেলেছিলেন তাঁরা। দুপুরে স্নানঘরে একসঙ্গে ঢোকে দম্পতি। কয়েক ঘণ্টা কেটে যাওয়ার পরেও আর বেরোননি। তাতেই সন্দেহ হয় আত্মীয়দের। ডাকাডাকির পর শেষমেশ স্নানঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন তাঁরা। স্নানঘরের ভিতরে দৃশ্য দেখেই শিউরে ওঠেন।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটেছিল উত্তরপ্রদেশের হাপুরে। পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার ঘটনাটি ঘটেছিল ছোট বাজার এলাকায়। হোলিতে পরিবার পরিজনদের সঙ্গে রং খেলায় মেতে উঠেছিল এক দম্পতি। রং তুলতে একসঙ্গে স্নান করতে ঢুকে আর বাইরে বেরোয়নি। আত্মীয়রা স্নানঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকেই দেখতে পান দম্পতির নিথর দেহ।
মৃতেরা হলেন, নবীন গুপ্ত (৪৪) এবং সাক্ষী গুপ্ত (৪০)। তড়িঘড়ি তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। সঙ্গে এও জানান, বিষাক্ত গ্যাসের জেরে দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে দম্পতির।
পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে, বাথরুমে গিজারের গ্যাস লিক করেছিল। একসঙ্গে স্নান করতে যাওয়ার পর সেই বিষাক্ত গ্যাসের জেরে দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় তাঁদের। কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর আত্মীয়রা ডাকাডাকি শুরু করেন। সাড়াশব্দ না পাওয়ায় দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন। তখনই দম্পতিকে স্নানঘরের মধ্যে লুটিয়ে থাকতে দেখেন।
