আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের ধাক্কায় মাত্র ১৬ বছর বয়সি এক কিশোরের মৃত্যু। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল হাসপাতাল চত্বর। মৃত কিশোরের পরিজনদের তাণ্ডবে প্রাণভয়ে শৌচাগারে আশ্রয় নিতে হল মহিলা চিকিৎসকদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষমেশ পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার। পুলিশ জানিয়েছে, শাহজাহানপুরের ইন্দিরা নগর রেল ক্রসিংয়ের কাছে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের ধাক্কায় প্রাণ হারায় অঙ্কিত কুমার নামে ওই কিশোর। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় সরকারি মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

সরকারি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ রাজেশ কুমার জানান, জরুরি বিভাগে আনার পর চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে অঙ্কিতকে মৃত ঘোষণা করেন। এমনকী নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাঁর ইসিজি-ও করা হয়েছিল। কিন্তু হৃদস্পন্দনের কোনও চিহ্ন মেলেনি। এরপর দেহটি মর্গে রাখা হয়।

এর পরেই শুরু হয় অশান্তি। অভিযোগ, কিশোরের মৃত্যুর খবর পেয়েই হাসপাতালে চড়াও হন তাঁর পরিজন ও পরিচিতরা। জরুরি বিভাগে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়, নষ্ট করা হয় সরকারি নথি। এমনকী কর্তব্যরত চিকিৎসকদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, উন্মত্ত জনতার হাত থেকে বাঁচতে মহিলা চিকিৎসকরা হাসপাতালের একটি শৌচাগারে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তারা সেই শৌচাগারের দরজাও ভাঙার চেষ্টা করেছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই পুলিশ এসে পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে উত্তেজনা সেখানেই থামেনি। সোমবার নিগোহি এলাকায় অঙ্কিতের দেহ রাস্তায় রেখে পথ অবরোধ শুরু করেন পরিজনরা। পুলিশের হস্তক্ষেপে দীর্ঘক্ষণ পর সেই অবরোধ ওঠে। শাহজাহানপুরের পুলিশ সুপার রাজেশ দ্বিবেদী জানিয়েছেন, দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। হাসপাতাল ভাঙচুর এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারা এবং সরকারি সম্পত্তি বিনাশ বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।