আজকাল ওয়েবডেস্ক: সম্প্রতি রাজস্থানের পালি শহরে চাঞ্চল্য। এক অভিজাত এলাকায় নিজেরই বাড়ি থেকে মা ও তাঁর দুই ছেলের দেহ উদ্ধার হলো। শুক্রবার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে যোধপুর রোডের আশাপুরা টাউনশিপে। ঘটনার মূল কারণ কী, তা অস্পষ্ট এখনও।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দু’দিন ধরে ঘরটি বন্ধ ছিল। দীর্ঘ সময় খোঁজ না পাওয়ায় পুলিশে খবর দেওয়া হয়৷ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশ গিয়ে দেহগুলি উদ্ধার করে।
পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, বড় ছেলে নরপত লালের (৩৪) দেহ সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। অন্যদিকে, মা শান্তি দেবী (৫৯) এবং ছোট ছেলে রঘুবীরের (২৬) দেহ মেঝেতে পড়ে ছিল। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, তাঁরা আত্মহত্যা করেছেন।
ডেপুটি সুপারিন্টেন্ডেন্ট অফ পুলিশ মদন সিং জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট এবং দু’টি মোবাইল ফোন পাওয়া গিয়েছে। শান্তি দেবী ও রঘুবীরের দেহের পাশে একটি বিষের শিশিও পড়ে ছিল। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া চিরকুটটি থেকে জানা গিয়েছে যে, পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিনের অসুস্থতা জনিত অবসাদে ভুগছিলেন। তবে এর পিছনে অন্য কোনও কারণ আছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
অন্যদিকে কিছুদিন আগেই ঝাড়খণ্ডে আরেক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে৷ জামাইবাবুর সঙ্গে কথা বলায় চরম বিপত্তি! ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে এক কিশোরীকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ তার দাদার বিরুদ্ধে। পুলিশের দাবি, ১৩ বছরের ওই কিশোরী কেন জামাইবাবুর সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় কথা বলত, তা নিয়ে রাগের মাথায় এই কাণ্ড ঘটিয়েছে দাদা। এই ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক রাহুল পাঠক এবং তাঁর বাবা সুবোধ পাঠককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১৩ মার্চ। রাতু থানার ঝখরাতাঁড় গ্রামে। তবে দীর্ঘ দিন বিষয়টি চাপা ছিল। গত ২ এপ্রিল ওই বাড়িতে শ্রাদ্ধের অনুষ্ঠান হতে দেখে গ্রামবাসীদের সন্দেহ হয়। তাঁদের কাছ থেকে খবর পেয়েই পুলিশ তদন্তে নামে। এরপর আসল ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।
রাঁচি গ্রামীণ এলাকার পুলিশ সুপার প্রবীণ পুষ্কর জানান, জেরায় জানা গিয়েছে যে কিশোরী তার জামাইবাবুর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত। রাহুল এটা একদমই পছন্দ করত না। ১৩ তারিখ এই নিয়ে দুই ভাই-বোনের মধ্যে ব্যাপক ঝগড়া হয়। অভিযোগ, সেই সময়ই রাগের মাথায় বোনকে গলা টিপে মেরে ফেলে রাহুল।
ঘটনার পর সুবোধবাবু এক পরিচিত ডাক্তারকে ডাকেন। ওই ডাক্তার কিশোরীকে মৃত ঘোষণা করে পরিবারকে দেহ পুড়িয়ে ফেলার পরামর্শ দেন।
এর পরই প্রমাণ লোপাট করতে দেহটি বিহারের গয়ায় নিয়ে গিয়ে দাহ করা হয়। পুলিশ ওই অ্যাম্বুল্যান্স চালকের বয়ান রেকর্ড করেছে। এখন পলাতক ডাক্তারের খোঁজে তল্লাশি চালান হয়েছে।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, সুবোধবাবুর নিজের মেয়ে একজনের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার পর বছর আটেক আগে ওই কিশোরীকে বিহার থেকে দত্তক নিয়েছিলেন তিনি।
জানা গিয়েছে, রাহুল শুরু থেকেই পালিতা বোনকে সহ্য করতে পারত না। এমনকী বাড়িতে ওই মেয়ের জন্য আলাদা উনুনে রান্না হতো। বর্তমানে অভিযুক্ত বাবা ও ছেলে দুজনেই জেল হেফাজতে রয়েছেন। ঘটনার দিন রাহুলের স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না।
















