জ্যৈষ্ঠের চড়া রোদ আর ভ্যাপসা গরমে পুড়ছে দক্ষিণবঙ্গ। এই হাঁসফাঁস গরমে আমজনতার একমাত্র চাতক পাখি যেন ঘরের এসি। দিন-রাত মিলিয়ে আট থেকে দশ ঘণ্টা এসি চলা এখন জলভাত।
2
10
এদিকে মাসের শেষে বিদ্যুতের বিল দেখে মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস ওঠে। অনেকেই ভাবেন, এসি চললেই বুঝি হাজার হাজার টাকার বিল আসবে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন অন্য কথা। সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললেই এসি চালিয়েও পকেট বাঁচানো সম্ভব।
3
10
ঘর দ্রুত ঠান্ডা করার চক্করে অনেকেই এসি ১৬ বা ১৮ ডিগ্রিতে চালিয়ে দেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভুলটি একেবারেই করবেন না। ব্যুরো অফ এনার্জি এফিসিয়েন্সির মতে, মানুষের শরীরের জন্য ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাই সবচেয়ে আরামদায়ক।
4
10
এসি যত কম তাপমাত্রায় রাখবেন, তার কম্প্রেসরকে তত বেশি খাটতে হবে, আর বিলের পারদও তত চড়বে। হিসাব বলছে, ২৪ ডিগ্রিতে এসি চালালে প্রতি ডিগ্রির জন্য প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় হতে পারে।
5
10
নতুন এসি কেনার পরিকল্পনা থাকলে সাধারণ এসির বদলে ‘ইনভার্টার এসি’ বাছুন। সাধারণ এসি ঘর ঠান্ডা হলেই বন্ধ হয়ে যায় এবং তাপমাত্রা বাড়লে আবার পুরো শক্তিতে চালু হয়। এতে বিদ্যুতের অপচয় হয় বেশি।
6
10
অন্যদিকে, ইনভার্টার এসির কম্প্রেসর বন্ধ না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের গতি নিয়ন্ত্রণ করে। এতে প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ বাঁচে। পাশাপাশি, ৩-স্টার বা ৫-স্টার রেটিংয়ের এসি বিদ্যুতের সাশ্রয় করতে ওস্তাদ।
7
10
এসি চললে ফ্যান বন্ধ রাখতে হবে, এমন ধারণার কোনও ভিত্তি নেই। এসি চালানোর সময় হালকা গতিতে (১ বা ২ নম্বরে) সিলিং ফ্যান চালিয়ে রাখুন। এতে এসির ঠান্ডা হাওয়া ঘরের আনাচে-কানাচে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। ফলে ঘর জলদি ঠান্ডা হবে এবং এসির ওপর বাড়তি চাপ কমবে। অবধারিতভাবে কমবে বিলের অঙ্কও।
8
10
এসির ফিল্টারে ধুলোবালি জমলে হাওয়া চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ঘর ঠান্ডা করতে এসিকে দ্বিগুণ কসরত করতে হয়। তাই প্রতি ১৫ দিন অন্তর এসির ফিল্টারটি খুলে জল দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। এছাড়া গরমের মরশুম পুরোদমে শুরুর আগেই দক্ষ মেকানিক ডেকে এসির সার্ভিসিং করিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
9
10
এসি চালানোর সময় ঘরের দরজা-জানলা ভালো করে বন্ধ রাখুন। জানলায় ভারী পর্দা টেনে দিলে বাইরের চড়া রোদ ঘরে ঢুকতে পারবে না, ফলে ঘর ঠান্ডা থাকবে অনেকক্ষণ।
10
10
রাতে ঘুমনোর সময় এসির 'স্লিপ মোড' বা ‘টাইমার’ চালু করে রাখুন। এতে ভোরের দিকে আবহাওয়া কিছুটা ঠান্ডা হলে এসি নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে বা ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে নেবে। ফলে ভোরের দিকে বাড়তি বিদ্যুৎ খরচ একধাক্কায় কমে যাবে।