আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে এক দম্পতির দীর্ঘদিনের দাম্পত্য সংকট ভয়াবহ রূপ নিল। দশ বছর ধরে  যৌন সম্পর্কের অভাব ও সন্তান না হওয়া নিয়ে চলতে থাকা টানাপোড়েনের জেরে এক মহিলা তাঁর স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে দিয়েছেন বলে অভিযোগ। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ ঘটে। আহত স্বামী বর্তমানে নয়ডার জয়পি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত নারী (৩০) ও তাঁর স্বামী মূলত বুলন্দশহরের বাসিন্দা। বিগত আট বছর ধরে তাঁরা গাজিয়াবাদের খোদা এলাকায় বসবাস করছিলেন। ২০১৬ সালের জুন মাসে তাঁদের বিয়ে হয়। দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময় ধরে দাম্পত্য জীবনে শারীরিক সম্পর্ক না থাকার অভিযোগ তুলে বারবার স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ায় জড়াতেন স্ত্রী। দম্পতির কোনও  সন্তান নেই, যা নিয়ে আত্মীয়স্বজনের কাছেও তাঁকে নিয়মিত প্রশ্নের মুখে পড়তে হতো বলে দাবি করেছেন তিনি।

ইন্দিরাপুরম সার্কেল অফিসার অনিল কুমার যাদব জানান, অভিযুক্ত মহিলা পুলিশের কাছে বলেছেন, তাঁর স্বামী ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক এড়িয়ে চলতেন এবং সন্তান নিতে চাইতেন না। এই বিষয়টি নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে স্বামী বাথরুম থেকে বেরোনোর সময় স্ত্রী আচমকাই রান্নাঘরের একটি ধারালো ছুরি দিয়ে তাঁর উপর হামলা চালান। গুরুতর আহত অবস্থায় রক্তাক্ত স্বামী মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। অভিযোগ, এরপর স্ত্রী ঘর বাইরে থেকে বন্ধ করে ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। আহত ব্যক্তি নিজেই কোনওরকমে পুলিশে ফোন করেন।

&t=2s

খোদা থানায় এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং অভিযুক্ত মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত দাবি করেছেন—এই কাজ করা ছাড়া তাঁর আর কোনও উপায় ছিল না।

পুলিশকে দেওয়া বয়ানে ওই মহিলা বলেন, “আমার স্বামী নিজের পুরুষত্ব নিয়ে বড়াই করত। বলত, সে অন্য মহিলাদের সঙ্গে সন্তান নিতে পারে, কিন্তু আমার সঙ্গে নয়। আমি বহু অপমান সহ্য করেছি। কেন সে আমাকে ঘৃণা করে, আজও বুঝতে পারিনি। প্রায়ই আমাকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলত। আমাকে মারধর করত, আমার বোনদেরও গালিগালাজ করত।”

তিনি আরও জানান, বুধবার রাতেও একই বিষয় নিয়ে তাঁদের তীব্র ঝগড়া হয়েছিল। “আমার কোনও অনুশোচনা নেই। আমি বছরের পর বছর মানসিক যন্ত্রণা ও অপমান সহ্য করেছি। আত্মীয়রা যখন সন্তান না হওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করত, তখন আমার কাছে কোনও উত্তর থাকত না,”—বলে দাবি করেছেন তিনি।

আহত ব্যক্তির ভাই জানান, “ডাক্তাররা আমার ভাইয়ের অস্ত্রোপচার করেছেন। সে বাথরুম থেকে বেরোনোর সঙ্গে সঙ্গেই এই হামলা হয়। রক্তে ভেসে যাচ্ছিল। আশ্চর্যের বিষয়, শরীরের অন্য কোথাও আঘাত করা হয়নি—শুধু গোপন অঙ্গেই হামলা করা হয়েছে। আমরা ওর স্ত্রীর পরিবারকেও বিষয়টি জানিয়েছি। আমার ভাই পুলিশকে নিজের বয়ান দিয়েছে।”

জয়পি হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রোগীর অবস্থা এখনও সংকটজনক। হাসপাতালের সার্জন ডা. সৌরভ গুপ্ত বলেন, “রোগীর পুরুষাঙ্গ কেটে দেওয়া হয়েছিল। আমরা অস্ত্রোপচার করেছি। অবস্থা এখনও গুরুতর, তবে আমরা আশাবাদী। এ ধরনের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের পর ভবিষ্যতে প্রজনন ক্ষমতা ফিরে আসার সম্ভাবনাও থাকে।”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গাজিয়াবাদে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য অসন্তোষ, যৌন সম্পর্কের অভাব ও সন্তান না হওয়া—এই তিনটি বিষয় কীভাবে এক দম্পতির জীবনকে এমন মর্মান্তিক পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ ঘটনার পূর্ণ তদন্ত শুরু করেছে।