আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২০ সালের দিল্লি হিংসা ষড়যন্ত্র মামলায় ছাত্রনেতা শারজিল ইমাম এবং উমর খালিদকে সোমবারও সুপ্রিম কোর্ট জামিন দেয়নি। রায় ঘোষণার সময় সুপ্রিম কোর্ট বলেছে যে, জামিনের ক্ষেত্রে তাঁরা (শারজিল ইমাম এবং উমর খালিদ) "সব ব্যক্তিকে সমানভাবে বিবেচনা করতে পারে না"।
সুপ্রিম কোর্ট এই মামলায় অভিযুক্ত আরও পাঁচজনকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছে। এঁরা হলেন, গুলফিশা ফাতিমা, মীরান হায়দার, শিফা উর রহমান, মহম্মদ সেলিম খান এবং শাদাব আহমেদ।
সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, “রেকর্ড থেকে জানা যাচ্ছে যে, অপরাধের ক্ষেত্রে সব আবেদনকারী সমান অবস্থানে নেই। হিংসায় অংশগ্রহণের স্তরবিন্যাসের কারণে আদালতকে প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ী বিচার-পূআগে থেকে আটকে রাখার যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে হবে।”
শীর্ষ আদালত আরও উল্লেখ করেছে যে, মামলার বিচারে বিলম্বের সুবিধা- এই দু'জনকে (শারজিল ইমাম এবং উমর খালিদ) দেওয়া যাবে না।
২০২০ সালের দিল্লি হিংসা ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত শারজিল ইমাম এবং উমর খালিদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ ধারায় মামলা করা হয়। দিল্লি হাইকোর্টের একাধিকবার এই দু'জনের জামিন নামঞ্জুর করে। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন এই দুই অভিযুক্ত।
২০২০ সালের দিল্লি হিংসা মামলা
২০২০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) এবং জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি)-র বিরুদ্ধে দেশব্যাপী বিক্ষোভ চলাকালীন উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ হয়েছিল। সেই হিংসায় বেশ কয়েকদিন ধরে চলে। হিংসার জেরে ৫০ জনেরও বেশি মানুষ, (যাঁদের বেশিরভাগই মুসলমান) নিহত হন এবং ৭০০ জনেরও বেশি আহত হন।
উমর খালিদ, শারজিল ইমাম এবং আম আদমি পার্টির (আপ) প্রাক্তন কাউন্সিলর তাহির হুসেন-সহ ২০ জনকে হিংসা উস্কে দেওয়া এবংদিল্লি হিংসা ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।
দিল্লি পুলিশের জামিনের আবেদনের বিরোধিতা
দিল্লি পুলিশ বারবার শারজিল ইমাম এবং উমর খালিদের জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করে বলেছে, তাঁরা যে অপরাধ করেছে তা ছিল রাষ্ট্রকে চলিয়ে দেওয়ার একটা ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা। তাঁদের বিক্ষোভকে তাই মোটেই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ বলা যায় না। পুলিশ বলেছে, তাঁরা "সরকার পরিবর্তন" এবং "অর্থনৈতিক শ্বাসরোধ"-এর লক্ষ্যে একটি সুপরিকল্পিত "সর্বভারতীয়" ষড়যন্ত্র শুরু করেছিল।
দিল্লি হিংসা মামলার এফআইআর তামাশা: উমর খালিদ
গত সেপ্টেম্বরে উমর খালিদ ২০২০ সালের দিল্লি হিংসার 'বৃহত্তর ষড়যন্ত্র' মামলায় অভিযোগ গঠনের বিরোধিতা করেন। খালিদ দিল্লির একটি আদালতকে বলেছিলেন যে, তিনি এই 'তামাশা এফআইআর'-এর কারণে পাঁচ বছর ধরে হেফাজতে আছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে ফাঁসানোর জন্য প্রমাণ জাল করা হয়েছে।
খালিদ অভিযোগ করেন যে, বিচার প্রক্রিয়া প্রথমে একজন ব্যক্তিকে ফাঁসানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তারপর নথি জাল করে ও চার্জশিট দাখিল করে তাঁকে লক্ষ্যবস্তু বানায়।
উমর খালিদের আইনজীবী ত্রিদীপ পাইস বলেছেন, "আপনারা (পুলিশ প্রশাসন) প্রথমে সিদ্ধান্ত নেন যে একে ধরতে হবে... তারপর রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়। প্রকৃত অপরাধের সঙ্গে আমার মক্কেলের কোনও যোগসূত্র নেই। আমরা প্রমাণ উদ্ধারের থেকে অনেক দূরে আছি।"
