আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতে জাতীয় ছুটির দিনগুলিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এই দিনগুলিই সেই সকল গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলিকে স্মরণ করিয়ে দেয় যা দেশের গঠন এবং এর পরিচয় ও মূল্যবোধকে সকলের সামনে তুলে ধরেছে। প্রজাতন্ত্র দিবস, স্বাধীনতা দিবস এবং গান্ধী জয়ন্তী কেবল উদযাপনের দিনই নয়, বরং গর্বের দিনও বটে। এই ছুটির দিনগুলিতে দেশ জুড়ে মদ বিক্রি করা নিষিদ্ধ। এই দিনগুলিকে ‘ড্রাই ডে’ বলা হয়। কেন এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়?
‘ড্রাই ডে’ ধারণাটি প্রাথমিকভাবে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী নিজেই প্রস্তাব করেছিলেন। তিনি ছিলেন মাদকবিরোধী নীতির একজন কট্টর সমর্থক। তিনি মনে করতেন যে, সামাজিক উন্নয়নে মদ একটি অশুভ জিনিস, যা মানুষের মধ্যে অনৈতিক কার্যকলাপের ইচ্ছে আরও বাড়িয়ে দেয়। যা সমাজের নীচু শ্রেণীর মানুষের জীবনে দারিদ্র্য ডেকে আনে। তাঁর নানা লেখা ও দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে গান্ধী মদ্যপান থেকে বিরত থাকার পক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন।
ভারত স্বাধীনতা লাভের পর বেশ কয়েকটি রাজ্য গান্ধীর মাদকবিরোধী নীতির ধারণা গ্রহণ করে এবং ‘ড্রাই ডে’ তাঁর ঐতিহ্যকে সম্মান জানানোর একটি উপায় হয়ে ওঠে। তাই ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন ‘ড্রাই ডে’ পালন করা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রজাতন্ত্র দিবস এবং স্বাধীনতা দিবসের মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ছুটির দিনগুলিও এই তালিকায় যুক্ত করা হয়।
জাতীয় ছুটির দিনগুলিতে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং ঐক্যের আদর্শের উদযাপন করা হয়। এই ছুটির দিনগুলিতে মদ বিক্রি নিষিদ্ধ করা সমাজকে মনে করিয়ে দেয় যে এই দিনগুলি উচ্ছৃঙ্খলতার জন্য নয়। বরং দেশপ্রেম ও আত্মবোধের জন্য। পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ এবং জনসমাবেশের মতো অনুষ্ঠানগুলি এই দিনে অনুষ্ঠিত হয়। মদ্যপান নিষিদ্ধ করার ফলে এই ধরনের অনুষ্ঠানগুলি সুষ্ঠভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং নেশা বা উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারণে বিঘ্নিত হয় না। প্রায়শই দেখা যায় যে মদ্যপানের ফলে দুর্ঘটনা, উপদ্রব এবং নানা সংঘাতের সৃষ্টি হয়। যেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম ও উদযাপন হবে, সেখানে ‘ড্রাই ডে’ পালন করলে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সুবিধা হয়।
নির্বাচনের সময় এবং মহাশিবরাত্রি ও গণেশ চতুর্থীর মতো উৎসবের সময় মদ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন রাজ্যের নিজস্ব ‘ড্রাই ডে’ রয়েছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত মোট পাঁচটি ‘ড্রাই ডে’ আছে। ২৬ জানুয়ারি (প্রজাতন্ত্র দিবস) বাদে, ১৫ ফেব্রুয়ারি (মহাশিবরাত্রি), ২১ মার্চ (ইদ-উল-ফিতর), ২৬ মার্চ (রামনবমী) এবং ৩১ মার্চ (মহাবীর জয়ন্তী)-এ ‘ড্রাই ডে’ রয়েছে।
