আজকাল ওয়েবডেস্ক: লালকেল্লা বিস্ফোরণের নেপথ্যে রয়েছে চিকিৎসকদের একটি দল। তদন্তকারীরা এই দলের নাম দিয়েছেন, 'হোয়াইট কলার মডিউল'। সেই ঘটনার পর থেকে উদ্বেগ চরমে। সন্দেহের তির চিকিৎসক ও মেধাজীবীদের দিকে। এই আবহে এবার ডোডা পুলিশ সরকারি মেডিক্যাল কলেজের মধ্যে ঢুকে চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত লকার তল্লাশি করেছে। 

ডোডার সিনিয়র পুলিশ সুপার-এর (এসএসপি)  নির্দেশে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার (এসডিপিও) ভাদেরওয়াহর তত্ত্বাবধানে তল্লাওশি অভিযান চালানো হয়। তবে, তল্লাশির সময় সন্দেহজনক কোনও জিনিস পাওয়া যায়নি।

গত ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার কাছে আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনায় উটে আসে জম্মু-কাশ্মীরের চার চিকিৎসকের নাম। আত্মঘাতী জঙ্গি উমন-উন-নবি সহ বাকিরাও উপত্যকার বাসিন্দা। এরপরই কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। লকারে বা হাসপাতাল প্রাঙ্গণের কোথাও কোনও বেআইনি বা নিষিদ্ধ জিনিসপত্র সংরক্ষণ বা না রাখার জন্য চিকিৎসা কর্মীদের স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

এরপর চলে তল্লাশি অভিয়ান। আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সুরক্ষা এবং আইনি প্রোটোকল কঠোরভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করার জন্য ডোডা পুলিশের চলমান সক্রিয় প্রচেষ্টার অংশ ছিল এই তল্লাশি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডোডা পুলিশ জননিরাপত্তা রক্ষা এবং একটি নিরাপদপরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডে তদন্ত জোরদার করেছে এনআইএ। দেশজুড়ে তল্লাশি চলছে, তবে সবচেয়ে বেশি নজর রাখা হচ্ছে জম্মু-কাশ্মীরের দিকে, কারণ অভিযোগ উঠেছে, সেখান থেকেই দিল্লির সন্ত্রাসের জাল বোনা হয়েছিল। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার বিস্ফোরণে জড়িত সন্দেহে আরও চারজনকে গ্রেফতার করেছে জাতকীয় তদন্তকারী সংস্থা। ফলে মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬।

১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় পুরনো দিল্লির লালকেল্লা সংলগ্ন মেট্রো স্টেশনের সামনে ধীরগতিতে এসে থামে একটি হুন্ডাই আই-২০। তার কয়েক মুহূর্ত পরেই ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। এখনও পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যু এবং প্রায় ৩০ জন আহত হওয়ার খবর মিলেছে। পরের দিনই তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় এনআইএ-এর হাতে।

তদন্তে নেমে প্রথমে গ্রেফতার করা হয় আমির রশিদ আলিকে। তাঁরই হুন্ডাই গাড়িটি বিস্ফোরণে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে দাবি। অভিযোগ, তিনিই বিস্ফোরক বোঝাই গাড়িটি সুইসাইড বম্বার উমর-উন-নবির কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দা আমিরকে সাম্বুরা এলাকা থেকে আটক করা হয়।

১৭ নভেম্বর তদন্তে বড় সাফল্য পায় এনআইএ। অনন্তনাগ থেকে গ্রেফতার করা হয় উমরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জাসির আলি বিলানিকে। অভিযোগ, তিনি জঙ্গিদের জন্য ড্রোন তৈরি করতেন এবং দিল্লি বিস্ফোরণের পরিকল্পনা তৈরির নেপথ্যেও সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

এদিকে জম্মু-কাশ্মীর থেকেই আরও তিন জনকে গ্রেফতার করেছে তদন্তকারী সংস্থা। পাশাপাশি ফরিদাবাদে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় অভিযুক্ত তিন চিকিৎসকও দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডের সঙ্গে পরোক্ষে যুক্ত বলে তদন্তকারীদের দাবি। এনআইএ-এর পাশাপাশি দিল্লি, জম্মু-কাশ্মীর, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশ পুলিশ সহ বহু সংস্থা মিলে তদন্ত চালাচ্ছে।