আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল), কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন যে, এমন একটি ধারণা বা 'ন্যারেটিভ' তৈরি করা হচ্ছে যে সীমানা পুনর্নির্ধারণের ফলে লোকসভায় দক্ষিণের রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব কমে যাবে। তবে তাঁর যুক্তি, বাস্তবে দক্ষিণী রাজ্যগুলোর শক্তি বা প্রতিনিধিত্ব বরং বৃদ্ধিই পাবে। তাঁর মতে, নিম্নকক্ষে (লোকসভায়) দক্ষিণের রাজ্যগুলোর মোট আসন সংখ্যা বেড়ে ১৯৫-এ পৌঁছাবে।
সংসদের বিশেষ অধিবেশনে লোকসভায় বক্তব্য রাখার সময় অমিত শাহ বলেন, "এমন একটি ধারণা তৈরি করা হচ্ছে এবং বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে যে, এই তিনটি বিল (সাংবিধানিক সংশোধনী বিল এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণ ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরিবর্তন সংক্রান্ত দু'টি সংশ্লিষ্ট আইন) লোকসভায় দক্ষিণের রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব কমিয়ে দেবে এবং তাদের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। বর্তমানে এই সভার সামনে উপস্থাপিত বিলটি এখন সভারই সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে।"
সীমানা পুনর্নির্ধারণে দক্ষিণের রাজ্যগুলোর আসন বৃদ্ধির তালিকা তুলে ধরেন অমিত শাহ
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, আসন সংখ্যার সামগ্রিক বৃদ্ধির ফলে এটি নিশ্চিত হবে যে, কোনও রাজ্যই তার বর্তমান প্রতিনিধিত্ব (পরম সংখ্যার হিসেবে) হারাবে না। তিনি জোর দিয়ে জানান যে, এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য হল একটি সম্প্রসারিত লোকসভার মাধ্যমে জনসংখ্যার পরিবর্তনের বিষয়টি সমন্বয় করার পাশাপাশি ন্যায্যতার নীতি বজায় রাখা। শাহ বলেন, "দক্ষিণের রাজ্যগুলোকে ঘিরে যে পুরো ধারণাটি তৈরি করা হচ্ছে, আমরা যদি সেদিকে নজর দিই তবে দেখা যায় যে, আপনাদের দ্বারা (মূলত কংগ্রেস) নির্ধারিত ৫৪৩টি আসনের মধ্যে বর্তমানে ১২৯ জন সাংসদ এই কক্ষে বসেন, যা মোট আসনের প্রায় ২৩.৭৬ শতাংশ। নতুন কক্ষে এখানে ১৯৫ জন সাংসদ বসবেন এবং লোকসভায় তাদের প্রতিনিধিত্বের হার বেড়ে ২৩.৯৭ শতাংশে দাঁড়াবে।"
রাজ্যওয়াড়ি আসন সংখ্যা এখন-তখন:
* বর্তমানে কর্ণাটকের আসন সংখ্যা ২৮, যা লোকসভার মোট ৫৪৩টি আসনের ৫.১৫ শতাংশ। বিলটি পাশ হওয়ার পর কর্ণাটকের সাংসদ সংখ্যা ২৮ থেকে বেড়ে ৪২ হবে এবং লোকসভায় তাদের প্রতিনিধিত্বের হার বেড়ে ৫.৪৪ শতাংশ হবে। কর্ণাটকের কোনও ধরনের ক্ষতিই হবে না।
* অন্ধ্রপ্রদেশের আসন সংখ্যা ২৫। যা মোট আসনের ৪.৬০ শতাংশ। বিলটি পাশ হওয়ার পর সাংসদ সংখ্যা ২৫ থেকে বেড়ে ৩৮-এ পৌঁছাবে, যা মোট আসনের ৪.৬৫ শতাংশ হবে।
* তেলেঙ্গানার আসন সংখ্যা ১৭টি, যা মোট আসনের ৩.১৩ শতাংশ। বিলটি পাস হওয়ার পর, সাংসদদের সংখ্যা ১৭ থেকে বেড়ে ২৬ হবে, যা মোট সংখ্যার ৩.১৮ শতাংশ।
* তামিলনাড়ুর আসন সংখ্যা ৪৯, যা ৭.১৮ শতাংশ। বিলটি পাশ হওয়ার পর, সাংসদদের সংখ্যা বেড়ে ৫৯ হবে এবং ৮১৬ সদস্যবিশিষ্ট নতুন সংসদে তাদের শতাংশের হার হবে ৭.২৩ শতাংশ। তামিলনাড়ুরও এতে কোনও ক্ষতি হবে না।
* কেরলের আসন সংখ্যা ২০, যা ৩.৬৮ শতাংশ। বিলটি পাশ হওয়ার পর, সাংসদদের সংখ্যা বেড়ে ৩০ হবে এবং নতুন সংসদে তাদের শতাংশের হার হবে ৩.৬৭ শতাংশ।
এমিত সাহ-র যুক্তি, "তামিলনাড়ুর প্রসঙ্গে বলতে গেলে, যেখানে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, আমি রাজ্যের জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, আপনাদের প্রতিনিধিত্ব কমে যাবে না, বরং তা বৃদ্ধি পাবে।"
রাজ্যভিত্তিক আসন বিন্যাস
দক্ষিণের পাঁচটি রাজ্যের (কেরল, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানা) বর্তমানে লোকসভায় সম্মিলিতভাবে ১২৯টি আসন রয়েছে, আসন পুনর্বিন্যাসের পর তা বেড়ে ১৯৫ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সীমানা নির্ধারণ কমিশন আইনে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি: অমিত শাহ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, প্রস্তাবিত সীমানা নির্ধারণ বিল পূর্ববর্তী সরকারগুলোর নিয়ে আসা বিলগুলোরই আদলে তৈরি। এর কাঠামোর মধ্যে বড় কোনও পরিবর্তনের আশঙ্কা তিনি খারিজ করে দেন। শাহ বলেন, "আমি মাননীয় সদস্য প্রিয়াঙ্কা জি-কে (গান্ধী) বলতে চাই যে, আমরা সীমানা নির্ধারণ কমিশন আইনে কোনও পরিবর্তনই করিনি। এমনকি একটি কমা বা পূর্ণচ্ছেদও পরিবর্তন করা হয়নি; আমরা বিদ্যমান সীমানা নির্ধারণ কমিশন আইনটিকে সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত অবস্থায় রেখেছি। আপনি যদি বলে থাকেন যে অতীতে এতে কারসাজি করা হয়েছিল, এবং এখন আশঙ্কা করছেন যে আবারও তেমনটা ঘটতে পারে, তবে আমি কেবল এটুকুই বলতে পারি- যদি অতীতে এই আইনের অপব্যবহার হয়েও থাকে, আমরা কিন্তু তা করব না।"















