আজকাল ওয়েবডেস্ক: ৩৯ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শাড়ি পরে জটিল সব যোগব্যায়াম করছেন এক মহিলা— এমন একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা ওই মহিলার এই কসরত দেখে নেটিজেনদের একাংশ যেমন তাঁর শারীরিক সক্ষমতা ও শৃঙ্খলার প্রশংসা করেছেন, তেমনই অন্য অংশটি অনাগত সন্তানের সুরক্ষার কথা ভেবে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ভাইরাল ভিডিওর ওই মহিলার নাম শশী প্রভা দ্বিবেদী। পেশায় তিনি একজন যোগব্যায়াম শিক্ষক। বেঙ্গালুরুর কোলাহলপূর্ণ অঞ্চলের একটি স্টুডিওর মালকিন শশীর ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার সংখ্যাও নেহাত কম নয়। সম্প্রতি তিনি তাঁর গর্ভাবস্থার শেষ মুহূর্তের একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যা ইতিমধ্যেই ২ কোটি ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ দেখে ফেলেছেন। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, শাড়ি পরেই তিনি 'চক্রাসন'-এর মতো অত্যন্ত কঠিন এবং জটিল কিছু আসন অনায়াসে করছেন।

ভিডিওটি ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনরা দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছেন। ইনস্টাগ্রামের কমেন্ট বক্সে একজন লিখেছেন, "এটা কি বাচ্চার জন্য আদেও নিরাপদ? শুধু ভিউজ পাওয়ার জন্য এমন করবেন না, দয়া করে বাচ্চার কথা ভাবুন।" অন্য একজন অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ক্ষোভ উগরে দিয়ে লিখেছেন, "আমি আপনার প্রতিভার সম্মান করি, কিন্তু গর্ভাবস্থার মতো একটা সুন্দর সময়কে এভাবে প্রদর্শন করাটা ঠিক নয়। একজন হবু মা হিসেবে আমার এটা অত্যন্ত আপত্তিকর লেগেছে।" বিতর্কের আঁচ এসে পড়েছে এক্স হ্যান্ডেলেও। সেখানে একজন মন্তব্য করেছেন, "বাকিরা হয়তো এখানে শক্তি আর নমনীয়তা দেখছেন, কিন্তু আমি দেখছি ৩৯ সপ্তাহের এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলা সতর্কতার চেয়ে কনটেন্ট তৈরি করাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।" অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, প্রসবের ঠিক আগে এত জটিল শারীরিক কসরত বড় কোনও  জটিলতা ডেকে আনতে পারে।

তবে এই তীব্র সমালোচনার মুখে অনেকেই আবার শশীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর সমর্থকদের দাবি, পেশাদার ট্রেনার বা ক্রীড়াবিদেরা চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে গর্ভাবস্থার শেষ দিন পর্যন্ত শরীরচর্চা করতেই পারেন। এক নেটিজেনের কথায়, "উনি একজন পেশাদার ট্রেনার। এই অবস্থায় শরীরচর্চা করা বা ওজন তোলা একেবারেই স্বাভাবিক বিষয়। সাধারণ মানুষের কাছে কঠিন মনে হলেও ওঁর কাছে এটা কোনও  ব্যাপারই নয়।"

বিতর্ক বাড়লেও শশী অবশ্য ভিডিওর ক্যাপশনেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন। তিনি সাফ জানান, এটা তাঁর দীর্ঘ বছরের কঠোর পরিশ্রম এবং অভ্যাসের ফল। তিনি কাকেও এটি অনুকরণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন না। শশীর কথায়, "৩৯ সপ্তাহ, অর্থাৎ ৯ মাস। এটাই আমার বাস্তব। অনেকে শুধু আসনগুলো দেখছেন, কিন্তু এর পেছনে থাকা বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা শারীরিক শক্তি, সচেতনতা, ধৈর্য আর নিজের শরীরের প্রতি ভরসাটা দেখতে পাচ্ছেন না।" কোনও  কিছু প্রমাণ করার জন্য তিনি এই যোগব্যায়াম করছেন না, বরং সচল ও সুস্থ থাকার জন্যই নিজের ভালো লাগা থেকে এই অভ্যাস বজায় রেখেছেন বলে জানান তিনি। একই সাথে তিনি নেটিজেনদের সতর্ক করে দিয়ে মনে করিয়ে দেন যে, প্রত্যেকের গর্ভাবস্থার অভিজ্ঞতা আলাদা হয়। তাই যেকোনও  ধরনের শরীরচর্চা শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক।