আজকাল ওয়েবডেস্ক: একসময় দূরপাল্লার সফরের জন্য ভারতীয় রেলের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) কামরাগুলিকে সবচেয়ে আরামদায়ক ও নিরাপদ মনে করা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই এসি কোচের ভেতরেই অতিরিক্ত ভিড়, সহযাত্রীদের অভদ্র আচরণ এবং নিরাপত্তার অভাব নিয়ে ভুরি ভুরি অভিযোগ উঠছে। সম্প্রতি সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও এই বিতর্ককে নতুন করে উস্কে দিয়েছে। চলন্ত ট্রেনের এসি কামরার ভেতরেই একদল যুবককে প্রকাশ্য মদ্যপান করতে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নেটিজেনরা। অনেকেই বলছেন, এই ধরণের বিশৃঙ্খলার কারণেই সাধারণ মানুষ ট্রেনের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলছেন।

এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ট্রেনের অন্যান্য বার্থে যখন সাধারণ যাত্রীরা বসে রয়েছেন, ঠিক তখনই একদল যুবক কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে মদ্যপানের আসর বসিয়েছে। পিন্টু কুমার নামের এক যুবকের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল থেকে প্রথমে এই ভিডিওটি আপলোড করা হয়। সেখানে দেখা যায়, ট্রেনের ‘সাইড লোয়ার বার্থ’-এ বসে এক যুবক ট্রেনের জানালার পর্দা দিয়ে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করছে, যাতে বাইরে থেকে কেউ দেখতে না পায়। আর সেই পর্দার আড়ালেই এক বোতল থেকে অন্য বোতলে মদ ঢেলে তা পানের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। তার বাকি সঙ্গীরাও তাকে এই কাজে উৎসাহ দিচ্ছে। এমনকি মদের সঙ্গে খাওয়ার জন্য পাশে চাট বা স্ন্যাক্সের প্যাকেটও সাজিয়ে রাখা হয়েছে।

পরিবার, শিশু ও বয়স্ক মানুষদের নিয়ে যাতায়াতের জন্য যে এসি কামরাকে বেছে নেওয়া হয়, সেখানে কীভাবে এমন অসভ্য আচরণ চলতে পারে, তা নিয়ে সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ। এই ভিডিওটি সামনে আসতেই কর্তৃপক্ষের কড়া পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। একজন নেটিজেন ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, এদের এমন শাস্তি দেওয়া উচিত যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ ট্রেনে মদ্যপান করার সাহস না পায়। অন্য একজন আক্ষেপের সুরে লিখেছেন, নিয়মকানুন এখন শুধু বইয়ের পাতায়, বাস্তবে ভারতীয়দের মধ্যে কোনো নৈতিকতা অবশিষ্ট নেই। কেউ কেউ আবার অপরাধীদের টিকিট বুকিং নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি তাঁদের সরকারি পরিচয়পত্র ব্লক করার দাবিও জানিয়েছেন।

বিষয়টি রেল কর্তৃপক্ষের নজরে আসতেই ‘রেলওয়ে সেবা’-র পক্ষ থেকে ওই ভাইরাল পোস্টে সাড়া দেওয়া হয়েছে। রেলের তরফে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পিএনআর (PNR) নম্বর, ট্রেনের নাম বা নম্বর, ঘটনার তারিখ ও সময় এবং নিকটবর্তী স্টেশনের নাম জানিয়ে যেন অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়। তবে এই আশ্বাসেও ক্ষোভ কমছে না সাধারণ যাত্রীদের। তাঁদের প্রশ্ন, ট্রেনে আরপিএফ বা চেকারদের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন বেআইনি কাজ সবার সামনে দিনের পর দিন ঘটে চলেছে?