আজকাল ওয়েবডেস্ক: গুজরাট পুলিশের ‘অ্যান্টি-র‌্যাডিকালাইজেশন সেল’ (এআরসি)-এর জন্য তৈরি নির্দেশিকা বা ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ (এসওপি) নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। কোনও  ব্যক্তির পোশাক, ভাষা কিংবা ধর্মের ওপর ভিত্তি করে যাতে নজরদারি বা ‘প্রোফাইলিং’ না করা হয়, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশিকা স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাস। এই মর্মে তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেলকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। অন্যদিকে লোকসভার সাংসদ তথা এআইএমআইএম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসিও উগ্রপন্থার এই সংজ্ঞায়নের তীব্র সমালোচনা করে সরব হয়েছেন।

বিতর্কের সূত্রপাত গত ১৯ জুন গুজরাট পুলিশের স্টেট ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (এসআইবি) থেকে সমস্ত জেলার পুলিশ সুপার ও কমিশনারদের পাঠানো একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি রাজ্য সরকার বিভিন্ন জেলায় এই সেলের জন্য ১৩৯টি নতুন পদের অনুমোদন দেওয়ার পর সেলগুলি সক্রিয় করা হয়। এরপরই ‘উগ্রপন্থী’ বা ‘র‌্যাডিকালাইজড’ ব্যক্তি চিহ্নিতকরণের একগুচ্ছ নিয়ম বেঁধে দেয় এসআইবি। নির্দেশিকা অনুযায়ী, যারা উগ্র চিন্তাধারা ব্যবহার করে দেশবিরোধী কাজ করে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও ঐক্যের ক্ষতি করে, মানুষের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে এবং নিজেদের ধর্মকেই একমাত্র সত্য মনে করে অন্য ধর্মের ক্ষতি করতে চায়— তারাই উগ্রপন্থী।

কিন্তু এই নির্দেশিকার অন্দরে থাকা কিছু নির্দিষ্ট নিয়মের কথা সামনে আসতেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিপিআইএম সাংসদ জন ব্রিটাস। তাঁর দাবি, নির্দেশিকায় উগ্রপন্থী চেনার যে ‘লক্ষণ’ বলা হয়েছে, তা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। সেখানে নাকি বলা হয়েছে— হঠাৎ দাড়ি রাখা, নিকাব পরা, সাধারণ কথাবার্তায় আরবি শব্দের ব্যবহার করা, বিশ্বের যেকোনও  প্রান্তে মুসলিমদের ওপর ঘটা কোনও  ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো কিংবা ধর্মীয় কারণে পড়াশোনা বা চাকরি ছেড়ে দেওয়ার মতো বিষয়গুলি দেখলেই পুলিশ সন্দেহ করতে পারে। ব্রিটাসের মতে, এই নির্দেশিকা যদি সত্যি হয়, তবে তা সংবিধান প্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকারের পরিপন্থী এবং এর ফলে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে বলির পাঁঠা বানানো হতে পারে। হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদুদ্দিন ওয়াইসিও ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, যারা নামাজ পড়ে, মসজিদে যায় কিংবা নির্দিষ্ট পোশাক পরে, তাদেরই উগ্রপন্থী তকমা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

যদিও গুজরাট পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এই উদ্যোগ কোনও  নির্দিষ্ট ধর্ম বা জাতের বিরুদ্ধে নয়, বরং সমাজবিরোধীদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার একটি চেষ্টা। অনেক সময় পরিবারই তাদের সন্তানদের বিপথগামী হওয়ার অভিযোগ নিয়ে পুলিশের কাছে আসে। তাই স্থানীয় পুলিশকে আরও সংবেদনশীল করতেই এই সেল গঠন করা হয়েছে, যেখানে অপরাধ তদন্তের বাইরে গিয়ে মনোবিদ ও ধর্মীয় গুরুদের সাহায্যে তরুণদের কাউন্সিলিং করানো হবে। তবে বিতর্কিত এই নির্দেশিকায় পটাশিয়াম নাইট্রেট বা অ্যামোনিয়ার মতো রাসায়নিক কেনা, ভিপিএন বা সিগন্যাল-এলিমেন্টের মতো এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেনের ওপর নজর রাখার কথাও বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে, সুরক্ষার নামে নজরদারির এই নতুন ফর্মুলা এখন তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে।