আজকাল ওয়েবডেস্ক: সম্প্রতি আবাসন চত্বরে পথকুকুরদের খাওয়ানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বা বিবাদের খবর মাঝেমধ্যেই শিরোনামে উঠে আসছে। তবে হরিয়ানার ফরিদাবাদে একটি আবাসিক এলাকায় ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক এক ঘটনা নেটপাড়ায় যে মাত্রায় আলোড়ন তৈরি করেছে, তা কার্যত নজিরবিহীন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে এক তরুণীর সঙ্গে অত্যন্ত কুরুচিকর এবং অশালীন আচরণ করছেন ওই আবাসনেরই এক যুবক। ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল স্রেফ পথকুকুরকে খাওয়ানো নিয়ে, কিন্তু তা যে এমন ব্যক্তিগত আক্রমণের রূপ নেবে, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি প্রত্যক্ষদর্শীরা।

প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ওই তরুণী আবাসনের বাইরে গেটের কাছে কয়েকটি পথকুকুরকে খাবার দিচ্ছিলেন। বিষয়টি নজরে আসতেই মেজাজ হারান অভিযুক্ত যুবক। তিনি প্রথমে নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর চড়াও হন এবং কেন কুকুরগুলিকে তাড়ানো হয়নি, সেই অভিযোগে তাঁদের মারধর শুরু করেন। তরুণী এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে এগিয়ে এলে আক্রমণের অভিমুখ ঘুরে যায় তাঁর দিকে। ওই যুবক অত্যন্ত ঔদ্ধত্যের সঙ্গে তরুণীকে লক্ষ্য করে বলতে থাকেন যে, তিনি নিজের ঘরে সুন্দর হতে পারেন কিন্তু তাঁর কাছে নন। এখানেই শেষ নয়, নিজের ব্যক্তিগত জীবনের ‘কীর্তি’ নিয়ে দম্ভ প্রকাশ করতেও দ্বিধা করেননি ওই যুবক। 

?ref_src=twsrc%5Etfw">March 16, 2026

ভিডিওটিতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, তাঁর বয়স ৩২ বছর এবং তাঁর জীবনে ইতিপূর্বে ১৭-১৮ জন প্রেমিকা ছিল। এমনকি ১৮-১৯ বছরের তরুণীদের সঙ্গেও তিনি প্রেম করেছেন এবং তাঁদের অবলীলায় ছেড়ে দিয়েছেন বলে দাবি করেন। তরুণীর কম বয়স হলে তাঁকেও প্রেম করে  মাঝরাস্তায় ছেড়ে চলে যেতেন— এমন কুরুচিকর মন্তব্য করতেও দেখা যায় তাঁকে। তরুণী যখন পুরো ঘটনাটি নিজের ফোনে রেকর্ড করতে শুরু করেন, তখন সেই যুবক আরও উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং তাঁকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন যে রেকর্ড করে কিছুই লাভ হবে না। 

যদিও নেটমাধ্যমের অন্য একটি অংশে গ্রেটার নয়ডার পঞ্চশীল সোসাইটির একটি ভিডিও নিয়ে চর্চা চলছিল, তবে ফরিদাবাদের এই ভিডিওটি জনমানসে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। নেটিজেনদের বড় অংশই ওই যুবকের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ লিখেছেন যে, এটি পিতৃতান্ত্রিক সমাজের এক নিকৃষ্ট উদাহরণ, আবার কেউ ওই যুবকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। কুকুরকে খাওয়ানো নিয়ে বিতর্কের ছদ্মবেশে এক মহিলার শ্লীলতাহানি এবং সম্মানহানি করা হয়েছে বলেই মনে করছেন সাধারণ মানুষ। বর্তমানে ভিডিওটি প্রশাসনের নজরে এসেছে এবং এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শহরের আনাচে-কানাচে যেভাবে পথকুকুর নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে, সেখানে এই ধরণের অমানবিক ও অশালীন আচরণ পশুপ্রেমী ও সাধারণ নাগরিক— উভয়ের নিরাপত্তার ওপরেই বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন বসিয়ে দিল।