আজকাল ওয়েবডেস্ক: বছরে ১.৭ থেকে ২.১ কোটি টাকার (১,৮০,০০০ - ২,২০,০০০ মার্কিন ডলার) লোভনীয় প্যাকেজ। সাথে রয়েছে অনসাইট ভিসা স্পনসরশিপের সুবিধাও। যেকোনও  চাকরিপ্রার্থীর কাছেই এটি একটি স্বপ্নের অফার। জয়পুরের মণিপাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র আদিত্যর ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটাই ঘটেছিল। কিন্তু সব কিছু ঠিকঠাক চললেও গোল বাধল কোম্পানির লোকেশন বা ঠিকানা দেখে। আর সেই অফারের স্ক্রিনশট সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতেই শুরু হয়েছে হাসির রোল। ট্রোল আর মিমের বন্যায় ভাসছেন ওই তরুণ।

আসলে আদিত্য যে অনসাইট চাকরির অফারটি পেয়েছেন, সেই কোম্পানির সদর দপ্তর ভারতের প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের করাচিতে। আদিত্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ওই কোম্পানির রিক্রুটার সরাসরি তাঁকে মেসেজ করে লিখেছেন, "হে আদিত্য! আমরা তোমার প্রোফাইল দেখেছি এবং আমাদের মনে হয়েছে তুমি আমাদের কোম্পানির জন্য একদম উপযুক্ত।"

বার্ষিক ২ লাখ ডলারের কাছাকাছি বেতনের পাশাপাশি ওই রিক্রুটার জানান, কোম্পানিটি করাচিতে হলেও তাদের পুরো টিম কাজ করে যুক্তরাজ্যের (UK) টাইমজোন অনুযায়ী। এই অফার লেটারটি পোস্ট করে আদিত্য রসিকতা করে ক্যাপশনে লেখেন, "করাচীর একটি কোম্পানি থেকে অনসাইট অফার পেলাম। ১.৮ থেকে ২.২ লাখ ডলার বেস স্যালারি, ভিসা স্পনসরড এবং টিম কাজ করে ইউকে টাইমজোনে। আমার কি যাওয়া উচিত?"

পোস্টটি শেয়ার করার পরপরই তা হু হু করে ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা এই অদ্ভুত অফার দেখে নানা ধরনের মজার ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করতে শুরু করেছেন। রণবীর সিং-এর একটি স্পাই থ্রিলার সিনেমার চরিত্রের কথা মনে করিয়ে দিয়ে একজন ব্যবহারকারী আদিত্যর নাম বদলে কমেন্ট করেছেন, "আদিত্য আলী মাজারি"।

আরেকজন মজা করে লিখেছেন, "একবার চলে যাও, তারপর নিজেই বুঝতে পারবে। বাই দ্য ওয়ে, গুডবাই!" অন্য একজন আবার সীমান্ত পেরিয়ে যাওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে লিখেছেন, "তাহলে তো এলওসি (LOC) টপকেই যেতে হবে।"

মজার মন্তব্যের পাশাপাশি অনেকেই বিষয়টিকে বড়সড় জালিয়াতি বা 'স্ক্যাম' বলে সতর্ক করেছেন। একজন লিখেছেন, "চাকরির বিবরণীটা ভালো করে দেখে নাও; ওখান থেকে ফেরার রাস্তা আছে তো? নাকি শুধুই ওয়ান-ওয়ে টিকিট?" ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার প্রসঙ্গ টেনে একজন লিখেছেন, "যদি সারাজীবনের জন্য র-এর (RAW) নজরে থাকতে চাও, কালো স্করপিও গাড়িকে নিজের আত্মীয়দের বাড়ির সামনে ঘুরতে দেখতে চাও, আর বাকি জীবনের জন্য ভিসা রিজেকশন চাও—তবে অবশ্যই যেতে পারো।"

তবে এই তালিকায় আদিত্য একাই নন। অন্য এক নেটিজেন জানিয়েছেন যে তিনিও কিছুদিন আগে ঠিক একই রকম একটি অফার পেয়েছিলেন, তবে তাঁর কোম্পানির ঠিকানা ছিল পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি। তিনি কমেন্ট করেন, "সবাইকে কি একই টেমপ্লেট পাঠানো হচ্ছে? কিছুদিন আগে রাওয়ালপিন্ডির একটা কোম্পানি থেকে আমিও ১.৩২ লাখ ডলারের অনসাইট অফার পেয়েছিলাম।" সব মিলিয়ে ২ কোটির এই পাকিস্তানি চাকরির অফার এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।