আজকাল ওয়েবডেস্ক: নতুন অর্থবর্ষ ২০২৬-২৭ শুরু হতে আর বেশি দেরি নেই। কেন্দ্রীয় বাজেটে VB-G RAM G আইনের জন্য ৯৫,৬৯২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি এখনও বলা হচ্ছে না—রাজ্যভিত্তিক বরাদ্দ কত হবে? আইন অনুযায়ী কেন্দ্র সরকার কিছু “অবজেক্টিভ প্যারামিটার”-এর ভিত্তিতে এই বরাদ্দ ঠিক করবে। কিন্তু সেই প্যারামিটার কী, কীভাবে তা নির্ধারিত হবে, কিংবা কোন সূত্রে কোন রাজ্য কত পাবে—এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরবতা রয়েছে। ফলে রাজ্য সরকারগুলির সামনে বড় প্রশাসনিক ও আর্থিক সঙ্কট তৈরি হয়েছে। তারা নিজেদের বাজেটে ৪০ শতাংশ অংশীদারির টাকা কীভাবে বরাদ্দ করবে, যখন মোট অঙ্কটাই অজানা?
আইনে বলা হয়েছে বরাদ্দ নির্ধারণ হবে নিরপেক্ষ সূচকের ভিত্তিতে। কিন্তু ‘নিরপেক্ষতা’ কাকে বলে, তার সংজ্ঞা স্পষ্ট নয়। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা কার্যত কেন্দ্রের হাতেই। ধারণা করা হচ্ছে, নীতি নির্ধারণে NITI Aayog-এর মতো কোনও সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে তাতেও যে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে, তার নিশ্চয়তা নেই।
এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে SBI Research, যা State Bank of India-এর গবেষণা শাখা। রাষ্ট্রপতির সম্মতি মেলার মাত্র আট দিনের মধ্যে প্রকাশিত এই রিপোর্টে একটি “কাল্পনিক পরিস্থিতি” ধরে রাজ্যভিত্তিক বরাদ্দের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। যদিও তা আনুষ্ঠানিক নয়, তবুও অনেকের মতে এটি সম্ভাব্য কাঠামোর একটি ইঙ্গিত।
রিপোর্টে সাতটি সূচকের ভিত্তিতে বরাদ্দের একটি হিসাব দেখানো হয়েছে—তিনটি ‘ইক্যুইটি’ এবং চারটি ‘এফিসিয়েন্সি’-র প্যারামিটার। কিন্তু এই সূচকগুলির কার্যকারিতা বা যুক্তি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। সরাসরি রাজ্যভিত্তিক বরাদ্দের অঙ্ক দেওয়া না হলেও, একটি তুলনামূলক টেবিল থেকে তা অনুমান করা যায়। সেখানে ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৪-২৫ পর্যন্ত সময়কালের গড় MG-NREGA ব্যয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য বরাদ্দের পার্থক্য দেখানো হয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, মোট ১৬টি বড় রাজ্যের ক্ষেত্রে (মোট ৮৬,৮৯০ কোটি টাকা ধরে) সাতটি রাজ্য লাভবান এবং নয়টি রাজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মোট তহবিলের প্রায় ১০ শতাংশ এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে সরে যাচ্ছে। বড় লাভবানদের মধ্যে রয়েছে মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, ছত্তীসগড় ও গুজরাত। বড় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, রাজস্থান, বিহার ও কেরল। লক্ষণীয় বিষয় হল, ধনী ও অপেক্ষাকৃত দরিদ্র—দু’ধরনের রাজ্যই উভয় তালিকায় রয়েছে। অর্থাৎ উন্নত রাজ্য থেকে পিছিয়ে পড়া রাজ্যে অর্থ পুনর্বণ্টনের যে ঘোষিত লক্ষ্য, তার সুস্পষ্ট প্রমাণ এই হিসাব থেকে মেলে না।
এখানেই শেষ নয়। এই বরাদ্দ কেবল কেন্দ্রের অংশ। তার সঙ্গে রাজ্যগুলিকে নিজেদের বাজেট থেকে ৪০ শতাংশ অর্থ জোগান দিতে হবে। অনুমান অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রকে ৪,৫০০ কোটির বেশি এবং উত্তরপ্রদেশকে ৯,০০০ কোটিরও বেশি অর্থ দিতে হতে পারে। এত বড় অঙ্কের অর্থ স্বল্প সময়ে বরাদ্দ করা কোনও রাজ্যের পক্ষেই সহজ নয়। তার উপর, যদি কাজের চাহিদা নির্ধারিত বরাদ্দ ছাড়িয়ে যায়, তাহলে অতিরিক্ত ব্যয়ের পুরো দায়ও রাজ্য সরকারের উপর বর্তাবে।
বর্তমানে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের প্রধান ভরসা Mahatma Gandhi National Rural Employment Guarantee Act বা এমজিএনআরইজিএ। VB-G RAM G আইনের ৩৭ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, পুরনো আইনটি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে। কিন্তু নতুন ব্যবস্থার অস্পষ্টতা এবং কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির ইঙ্গিত নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সব মিলিয়ে, বরাদ্দ নিয়ে এই ধোঁয়াশা শুধু আর্থিক হিসাবের বিষয় নয়—এটি কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক, স্বচ্ছতা এবং নীতিগত উদ্দেশ্য নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। নতুন অর্থবর্ষের আগে যদি স্পষ্ট দিশা না আসে, তাহলে রাজ্যগুলিকে অনিশ্চয়তার মধ্যেই বাজেট পরিকল্পনা করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি এখনই পরিষ্কার না হলে আগামী দিনে এই আইন ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে।
