আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভ্যালেন্টাইনস ডে-র আবহেও ঝগড়া। বিয়ের প্রতিশ্রুতিও পরেও প্রতারণার অভিযোগ! শেষমেশ ভয়ঙ্কর পরিণতি হল প্রেমিক যুগলের। ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে প্রেমিক যুগলের গুলিবিদ্ধ, রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করল পুলিশ।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের নয়ডায়। শনিবার পুলিশ জানিয়েছে, ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে এক চার চাকা গাড়ি থেকে এক প্রেমিক যুগলের গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃতেরা হলেন, সুমিত ও রেখা। দু'জনের বয়স ২০ বছরের আশেপাশে হবে। পার্কিং এলাকায় একটি গাড়ির মধ্যে থেকে তাঁদের গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনাস্থল নয়ডা সেক্টর ৩৯। গাড়ির চালকের আসনে ছিলেন সুমিত। পাশের সিটেই ছিলেন রেখা। সুমিতের হাতেই ছিল পিস্তল। সেটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। গাড়িটি ভিতর থেকে লক করা ছিল। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, রেখাকে গুলি করে খুনের পর সুমিত মাথায় গুলি করে আত্মঘাতী হন।
প্রাথমিক তদন্তের পর জানা গেছে, রেখা নয়ডার বাসিন্দা ছিলেন। সুমিত দিল্লির ত্রিলোকপুরীর বাসিন্দা ছিলেন। শুক্রবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে তাঁরা নিখোঁজ ছিলেন। শুক্রবারের পর দুই পরিবারের সদস্যরা তাঁদের আর খোঁজ পাননি। এরপর নিখোঁজ ডায়েরি করে দুই পরিবার।
গাড়ি থেকে একটি চিঠি উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে সুমিত লিখেছিলেন, গত ১৫ বছর ধরে রেখার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে তাঁর। এমনকী রেখা বিয়ের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন, রেখার অন্যত্র বিয়ে ঠিক হয়েছে। অন্য কাউকে রেখা বিয়ে করবেন বলেও জানিয়েছেন। রেখার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনেছেন তিনি।
ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে ফরেন্সিক টিম। দেহ দু'টি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে মামলা রুজু করে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
দিন কয়েক আগেই এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছিল বেঙ্গালুরুতে। পুলিশ জানিয়েছে, ২৬ বছরের কিরণ পেশায় বডি বিল্ডার ও জিম ট্রেনার। গত তিন বছর ধরে এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তাঁর। আচমকাই গত শনিবার প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে যান কিরণ। সেদিন ছিল ভ্যালেন্টাইনস সপ্তাহের রোজ ডে। প্রেমালাপের বদলে সম্পর্ক ভাঙার কথা বলেন তরুণী।
কিরণকে তিনি জানান, তাঁর অন্য এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছে। এমনকী বাগদানও হয়ে গেছে। ঝগড়া না করেই মনখারাপ নিয়ে মহালক্ষ্মী লেআউটের বাড়িতে ফিরে আসেন কিরণ। ঘরবন্দি করে অবশেষে চরম পদক্ষেপ করেন। গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন তিনি।
দীর্ঘক্ষণ সাড়াশব্দ না পেয়ে, পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি শুরু করেন। শেষমেশ ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন। দেহটি পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। তাঁর ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি সুইসাইড নোট। ঘটনার তদন্ত জারি রেখেছে পুলিশ।
