আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে দেশজুড়ে হোটেল বুকিংয়ে বড় উল্লম্ফন ঘটেছে অনলাইন হসপিটালিটি সংস্থা OYO-এর প্ল্যাটফর্মে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি বেঙ্গালুরুতে তাদের রুম বুকিং বেড়েছে প্রায় ৫১ শতাংশ। এই বৃদ্ধির ফলে ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে পছন্দের শহরের তালিকায় বেঙ্গালুরু উঠে এসেছে দ্বিতীয় স্থানে।
সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে উত্তর প্রদেশের বৃন্দাবনে। গত বছরের তুলনায় সেখানে বুকিং বেড়েছে বিস্ময়কর ২৩১ শতাংশ। সংস্থার দাবি, ধর্মীয় ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে জনপ্রিয় এই শহরে দম্পতি এবং পর্যটকদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বেঙ্গালুরুর পরেই রয়েছে হায়দরাবাদ, যেখানে বুকিং বেড়েছে ৪৭ শতাংশ। এছাড়া পুনেতে ৪৫ শতাংশ, কলকাতায় ৩৮ শতাংশ, চেন্নাইয়ে ৩৫ শতাংশ এবং মুম্বইয়ে ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে। সব মিলিয়ে, কর্মদিবস হওয়া সত্ত্বেও এ বছরের ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে সংস্থার প্ল্যাটফর্মে মোট বুকিং প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সংস্থার এক মুখপাত্র বলেন, “এটা লক্ষ্য করার মতো যে, মানুষ এখন ভালো সুযোগ পেলে সপ্তাহের মাঝামাঝিও ভ্রমণে বেরোতে রাজি। ভ্যালেন্টাইনস ডে কর্মদিবস হওয়া সত্ত্বেও বুকিং বেড়েছে, যা ভ্রমণ মানসিকতার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।”
আরও একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গিয়েছে গড় থাকার সময়সীমায়। ২০২২ সালে যেখানে গড়ে দু’দিনের জন্য বুকিং হতো, সেখানে এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার দিনে। সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে, মহামারির পর যে ‘স্টেকেশন’ সংস্কৃতি জনপ্রিয় হয়েছিল, তার পরিবর্তে এখন দীর্ঘ ভ্রমণের প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে সমুদ্রতটের বদলে পাহাড়ি গন্তব্যগুলির প্রতি আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে।
&t=782sভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষে সংস্থার সিইও ঋতেশ আগারওয়াল গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে এক বিশেষ বার্তাও দিয়েছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম লিঙ্কডইনে লিখেছেন, “OYO আপনাদের মতামত থেকেই গড়ে উঠেছে। আপনারাই আমাদের প্রথম ভালোবাসা। তাই আজ আমরা আপনাদের সৎ, নির্ভেজাল মতামত, অভিযোগ বা সমালোচনা শুনতে চাই।”
তিনি জানান, সংস্থা একটি নতুন পরীক্ষামূলক ফিডব্যাক পেজ চালু করেছে, যেখানে গ্রাহকরা খোলাখুলি ও গোপনীয়ভাবে নিজেদের অভিজ্ঞতা জানাতে পারবেন। তাঁর কথায়, “প্রশংসা হোক বা হতাশা—সবটাই আমাদের কাছে মূল্যবান।”
ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে বুকিং বৃদ্ধির এই পরিসংখ্যান শুধু একদিনের উচ্ছ্বাস নয়, বরং বদলে যাওয়া ভ্রমণ-সংস্কৃতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যটন বিশেষজ্ঞরা। কর্মব্যস্ত জীবনের মাঝেও মানুষ এখন ব্যক্তিগত মুহূর্তকে গুরুত্ব দিচ্ছেন—আর সেই প্রবণতার প্রতিফলনই দেখা গেল এ বছরের পরিসংখ্যানে।
