আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্ববাজারে জ্বালানির আকাল। এই 'সংকট' রুখতে ভারতকে বড়সড় স্বস্তি দিল আমেরিকা। শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেছেন, আগামী ৩০ দিন রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে ভারতের ওপর কোনও বাধা থাকবে না। মূলত পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে তেলের জোগানে যে টান পড়েছে, তা সামাল দিতেই ওয়াশিংটনের এই ‘স্পেশাল উইন্ডো’।
মার্কিন প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ৫ মার্চ পর্যন্ত যে সমস্ত রুশ জাহাজ মাঝসমুদ্রে পণ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, আগামী ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ভারত সেই তেল কিনতে পারবে। এমনকী নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা জাহাজগুলিকেও এই ছাড়ের আওতায় আনা হয়েছে।
এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে স্কট বেসেন্ট জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জমানায় আমেরিকার তেল উৎপাদন রেকর্ড গড়েছে। ভারত আমেরিকার অত্যন্ত জরুরি সহযোগী দেশ। তাই বৈশ্বিক তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং ইরানের ‘জ্বালানি-আকাল’ দশা থেকে মুক্তি পেতে এই সাময়িক পদক্ষেপ করা হয়েছে।
পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই ছাড় শুধুমাত্র মাঝসমুদ্রে আটকে থাকা তেলের জন্য, যাতে রাশিয়া এর থেকে নতুন করে কোনও বড় আর্থিক সুবিধা না পায়। বদলে ভারত আমেরিকার থেকে আরও বেশি তেল কিনবে বলেই আশা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে গত নভেম্বরেই রুশ তেল সংস্থাগুলির ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল আমেরিকা। ফলে জানুয়ারিতে ভারত মাত্র ২১.২ শতাংশ তেল রাশিয়া থেকে এনেছিল, যা গত দেড় বছরে সর্বনিম্ন। তবে ফেব্রুয়ারিতে সেই আমদানির পরিমাণ ফের ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে।
বর্তমানে ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের যাতায়াত কার্যত বন্ধ। বিশ্বের ২০ শতাংশ তেলের জোগান দেওয়া এই পথ আঁটকে যাওয়ায় শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৮৩ ডলারে পৌঁছেছে। সৌদি আরব ও ইরাকের প্রধান তৈলক্ষেত্রগুলিতেও হামলার খবর মিলেছে। এদিকে বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও এখনই দেশের বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ছে না বলেই খবর।
