আজকে ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের উন্নাও রেলওয়ে স্টেশনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) ওয়েটিং হল মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎই চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী থাকল। যাত্রীদের ভিড়ে ভরা অপেক্ষা করার ঘরেই এক মহিলা আচমকা অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে নড়াচড়া শুরু করেন। পরে জানা যায়, তাঁর এই আচরণের আড়ালেই চলছিল চুরির চেষ্টা। সতর্ক যাত্রী ও রেল পুলিশের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত হাতেনাতে ধরা পড়েন অভিযুক্ত।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের নাম সঞ্জনা। তাঁর বাড়ি কানপুর। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনি হঠাৎই ওয়েটিং হলের মাঝখানে দাঁড়িয়ে অদ্ভুতভাবে দুলতে ও হাত-পা নাড়তে শুরু করেন। অনেকেই প্রথমে ভেবেছিলেন, হয়তো মানসিক ভারসাম্যহীন বা অসুস্থ। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই বোঝা যায়, এই ‘নাচের’ মতো ভঙ্গি আসলে যাত্রীদের মনোযোগ সরানোর কৌশল।
এই সময় তাঁর হাত থেকে হ্যান্ডব্যাগটি মেঝেতে পড়ে যায়। ব্যাগ তুলতে গিয়ে সেখান থেকে দু’টি দামি স্মার্টওয়াচ মাটিতে পড়ে যায়। উপস্থিত যাত্রীরা লক্ষ্য করেন, সঞ্জনার নিজের হাতে কোনও ঘড়ি নেই। অথচ তাঁর সাধারণ পোশাক-আশাকের সঙ্গে ওই দামী স্মার্টওয়াচ দু’টি বেমানান বলেই মনে হয়। সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
ঘটনার কিছু পরেই দেখা যায়, সঞ্জনা পাশের এক মহিলা যাত্রীর ব্যাগে আলতো করে হাত দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের যাত্রীরা চিৎকার করে ওঠেন এবং তাঁকে ঘিরে ফেলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সৌভাগ্যবশত, ওই সময় স্টেশন চত্বরে যৌথভাবে টহল দিচ্ছিল সরকারি রেল পুলিশ (GRP) ও রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF)। যাত্রীদের অভিযোগ পেয়ে এবং একটি গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সঞ্জনাকে আটক করে।
পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে তাঁর কাছ থেকে একটি বাদামি রঙের হ্যান্ডব্যাগ, একটি মোবাইল ফোন এবং ওই দুই স্মার্টওয়াচ উদ্ধার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, সঞ্জনা পরিকল্পিতভাবেই এই কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে যাত্রীদের ব্যাগ থেকে মূল্যবান জিনিস হাতিয়ে নেওয়াই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। পরে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতে পেশ করার পর উন্নাও জেলে পাঠানো হয়েছে।
রেল পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ওয়েটিং রুম বা ট্রেনের ভিতরে বিভ্রান্তি তৈরির মাধ্যমে চুরির ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে ভিড়ের সুযোগ নিয়ে এমন কৌশল প্রয়োগ করা হয়। তবে এদিন যাত্রীদের সতর্কতা ও পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে বড় ধরনের চুরি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
রেল কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের অনুরোধ করেছে, স্টেশন বা ট্রেনে অবস্থানকালে নিজেদের মালপত্রের দিকে নজর রাখতে এবং সন্দেহজনক আচরণ চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানাতে। উন্নাও স্টেশনের এই ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিল—সচেতন থাকলেই অপরাধ অনেকাংশে রোখা যায়।
