আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের বাগপত জেলায় এক তরুণী তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই নির্যাতন শুরু হয় এবং তা মাসের পর মাস ধরে চলে। নির্যাতনের চরম পর্যায়ে তাঁকে জুয়ার খেলায় ‘পণ’ হিসেবে রাখা হয় এবং পরে আটজন ব্যক্তি তাঁকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ।

ভুক্তভোগী মহিলা জানান, গত বছরের ২৪ অক্টোবর তাঁর বিয়ে হয় মীরাট জেলার খিওয়াই গ্রামের বাসিন্দা দানিশের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকেই তাঁর স্বামী মদ্যপান ও জুয়ায় আসক্ত ছিলেন এবং প্রায়শই মদ্যপ অবস্থায় তাঁকে মারধর করতেন। নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়ে যখন দানিশ নাকি এক জুয়ার খেলায় তাঁকে পণ হিসেবে বাজি রাখেন।

মহিলার অভিযোগ, জুয়ার খেলায় হেরে যাওয়ার পর তাঁর স্বামী এবং অন্যান্য অভিযুক্তরা তাঁকে মারধর করে এবং জোর করে অন্য পুরুষদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করে। তিনি দাবি করেছেন, ওই ঘটনায় আটজন ব্যক্তি তাঁকে ধর্ষণ করে। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে তিনি শনাক্ত করতে পেরেছেন, গাজিয়াবাদের বাসিন্দা উমেশ গুপ্ত, মনু এবং অংশুল।

অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, তাঁর শ্বশুরবাড়ির সদস্যরাও তাঁর ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছে। তাঁর স্বামীর দাদা শাহিদ তাঁকে ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ, পাশাপাশি তাঁর ননদের স্বামী শাকিনও জোর করে  তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে বলে তিনি দাবি করেছেন। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি তাঁর শ্বশুর ইয়ামিনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, ইয়ামিন তাঁকে ধর্ষণ করেন এবং বলেন, “তুমি পণ নিয়ে আসোনি, তাই আমাদের কথামতো সব করতে হবে, আমাদের খুশি রাখতে হবে।”

নিজের যন্ত্রণার কথা জানাতে গিয়ে মহিলা বলেন, “বিয়ের পর থেকেই আমাকে পণের জন্য নির্যাতন করা হয়েছে। আমার স্বামী জুয়াড়ি ছিল, সে আমাকে জুয়ায় পণ রেখেছিল। তারপর আটজন আমাকে ধর্ষণ করে। আমার শ্বশুরও আমাকে ধর্ষণ করেছে এবং বলেছে, পণ না আনায় আমাকে সব মেনে নিতে হবে। দেওর ও ননদের স্বামীও আমাকে ধর্ষণ করেছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গর্ভবতী হয়ে পড়ার পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে জোর করে গর্ভপাত করায়। এরপর তাঁর পায়ে অ্যাসিড ঢেলে দেওয়া হয় এবং তাঁকে একটি নদীতে ফেলে দিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়। ভুক্তভোগীর দাবি, পথচারীরা তাঁকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন বলেই তিনি প্রাণে বেঁচে যান।

ঘটনার পর কোনওভাবে তিনি তাঁর বাপের বাড়িতে পৌঁছতে সক্ষম হন এবং পরিবারের কাছে পুরো ঘটনার বিবরণ দেন। বর্তমানে অভিযুক্তরা তাঁর বাবাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

ন্যায়বিচারের দাবিতে ওই মহিলা বাগপতের পুলিশ সুপারের দপ্তরে আবেদন করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিনৌলি থানায় এই ঘটনায় একটি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগগুলি অত্যন্ত গুরুতর এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নারী নিরাপত্তা, পণপ্রথা এবং পারিবারিক হিংসার মতো গুরুতর সামাজিক সমস্যাগুলি আবারও সামনে চলে এসেছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ।