আজকাল ওয়েবডেস্ক: জমি নিয়ে বিবাদের জেরে বাবা, বোন এবং ভাগ্নিকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে খুন। অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। উত্তরপ্রদেশের গঙ্গানগর এলাকায় চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, খুনের পর দেহগুলি লোপাট করতে একটি কুয়োর মধ্যে ফেলে দিয়েছিল অভিযুক্ত।

গঙ্গানগরের ডিসিপি কুলদীপ গুণাওয়াত জানিয়েছেন, গত রবিবার মুকুন্দ প্যাটেল নামে এক ব্যক্তি তাঁর বাবা, বোন ও ভাগ্নির নিখোঁজ সংবাদ জানিয়ে থানায় ডায়েরি করেন। অভিযোগে তিনি জানান, এই ঘটনার পিছনে তাঁর দাদা মুকেশ প্যাটেলের হাত থাকতে পারে। সোমবার পুলিশ মুকেশকে আটক করে জেরা করতেই বেরিয়ে আসে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের বিবরণ।

জেরায় মুকেশ জানিয়েছে, তার বাবা রাম সিং চার বিঘা জমি ছোট ছেলে মুকুন্দকে লিখে দিয়েছিলেন। মুকেশ নিজের জন্য সামান্য কিছু জমি চাইলেও বাবা তা দিতে রাজি হননি। সেই আক্রোশ থেকেই গত ২ জানুয়ারি রাতে সে বাবাকে শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টা করে। সেই সময় বোন সাধনা এবং ভাগ্নি আস্থা বাধা দিতে গেলে হাতের কাছে থাকা কোদাল দিয়ে তিনজনকে কুপিয়ে খুন করে মুকেশ।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ওই রাতে ঘন কুয়াশার সুযোগ নিয়ে মুকেশ দেহগুলি একটি কুয়োর ভেতর ফেলে খড় দিয়ে ঢেকে দেয়। অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী কুয়ো থেকে তিনটি দেহ এবং খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্তের কাছ থেকে একটি পিস্তলও মিলেছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

অন্যদিকে, আবারও দিল্লিতে ভয়াবহ ঘটনা৷  লক্ষ্মীনগরে ঘটে গেল মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড। নিজের মা, ভাই এবং বোনকে খুনের অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। তবে ঘটনার চেয়েও বেশি পুলিশের নজর কেড়েছে অভিযুক্তের আচরণ। তিনজনকে শেষ করে দিয়ে ওই যুবক সোজা চলে যান স্থানীয় থানায়। সেখানে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের কাছে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। ঘটনায় রীতিমত হতভম্ব সবাই৷ 

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে দু’জন মহিলা এবং এক জন পুরুষ। তাঁরা প্রত্যেকেই অভিযুক্তের পরিবারের সদস্য। যুবকের স্বীকারোক্তির পরেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ বাহিনী। ঘর থেকে তিনটি দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

ঠিক কী কারণে নিজের পরিবারের লোকেদের ওপর এমন নৃশংস হামলা চালালেন ওই যুবক, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বর্তমানে পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসবাদ শুরু করেছে। পারিবারিক কোনও অশান্তি নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও গভীর কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তদন্ত জারি রয়েছে৷