আজকাল ওয়েবডেস্কঃ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশের ক্রমবর্ধমান আত্মনির্ভরতার কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজ, রবিবার, তাঁর 'মন কি বাত'-এর মাসিক অনুষ্ঠানের ১৩৬তম পর্ব ছিল। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সাহসিকতার পাশাপাশি দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।" দেশীয় প্রযুক্তিতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির ক্ষেত্রে অগ্রগতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে উৎপাদনের অগ্রগতির উদাহরণ দিতে দিয়ে ভারতীয় নৌবাহিনিতে আইএনএস মহেন্দ্রগিরির অন্তর্ভুক্তির কথা উল্লেখ করেন। বলেন, "দেশেই আধুনিক যুদ্ধজাহাজটি নকশা করা হয়েছে। পাশাপাশি সেটি তৈরিও করা হয়েছে এখানেই। এতে ৭৫ শতাংশের বেশি দেশীয় সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। যা আদতে 'আত্মনির্ভর ভারত'-এর ক্রমবর্ধমান শক্তির প্রতীক হয়ে থাকবে।"
এদিন তিনি দেশের প্রতিরক্ষা ও গবেষণা সংস্থা (ডিআরডিও)-র দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি পিনাকা লং রেঞ্জ গাইডেড রকেট (LRGR-120)-এর কথাও উল্লেখ করেন। যা ৬০ থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত লক্ষ্যভেদের ক্ষমতা রাখে। এ জন্য তিনি দেশের বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়ারদের সম্মিলিত পরিশ্রমকে সাধুবাদ জানান।
পাশাপাশি, উল্লেখ করেন দূরপাল্লার 'কুশা মিসাইল'-এর সফল উড়ান পরীক্ষার কথাও। তাঁর মতে, এ ধরনের সাফল্যই প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করছে।
'মন কি বাত'-এ এদিন কার্গিল বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধে ভারতের লড়াকু সেনাদেরও শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, "২৬ জুলাই এমন এক তারিখ, যার জন্য ক্যালেন্ডার দেখতে হয় না। কার্গিল বিজয় দিবস প্রতিটি দেশবাসীকে গর্বিত করে। ভারতীয় সেনাদের অসাধারণ সাহস ও বীরত্বের কথা মনে করিয়ে দিতে সাহায্য করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "কার্গিলের সুউচ্চ পাহাড়, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং শত্রুপক্ষের নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েও ভারতীয় সেনারা নির্ভীক থেকেছে। কোনও ভাবেই মনোবল ভেঙে পড়েনি। দেশের মাতৃভূমিকে রক্ষা করার জন্য তাঁরা নিজেদের জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করেছেন।" তাই কার্গিল বিজয় দিবসে সেই সমস্ত বীর শহিদসেনাকে শ্রদ্ধা জানান তিনি।
মোদি এ ছাড়াও জানান, বর্তমান ভারতের কাছে শুধু দেশের সেনাদের আত্মত্যাগই স্মরণীয় নয়। সেনাদের বীরত্বের কাহিনি নবীন প্রজন্মের কাছেও পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে। কার্গিল যুদ্ধের সেনাদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্মরণে চলতি বছর বিশেষ ‘শৌর্য বিজয় যাত্রা’র আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিজয় যাত্রায় মোটরসাইকেল অভিযানটি ১৪ জুলাই নয়াদিল্লির জাতীয় যুদ্ধ স্মারক থেকে শুরু হয়েছে। যা শেষ হবে দ্রাসের কার্গিল যুদ্ধ স্মারকে গিয়ে। 'ওয়ান রাইড, ওয়ান নেশন, ওয়ান স্যালুট’'এই বার্তাকে সামনে রেখে এই যাত্রার আয়োজন।যা দেশবাসীকে ফের একবার মনে করিয়ে দেবে দেশের জন্য বীর সেনাদের আত্মত্যাগের কথা। এমনটাই জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি।
















