আজকাল ওয়েবডেস্ক: জুন মাসে দেরিতে শুরু হওয়া এবং জুলাইয়ের প্রথমার্ধে দুর্বল গতির বর্ষা অবশেষে নতুন ছন্দে ফিরতে চলেছে। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, একাধিক নিম্নচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবে আগামী কয়েকদিন দেশের বিস্তীর্ণ অংশে বৃষ্টি বাড়বে। পশ্চিম, পূর্ব, উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে শুরু করে হিমালয় সংলগ্ন রাজ্যগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণের জেরে জল জমা, যানজট এবং ভূমিধসের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্ষার এই নতুন সক্রিয় পর্যায়ের মূল কারণ পরপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপ। সম্প্রতি দক্ষিণ-পশ্চিম রাজস্থানের উপর একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়ে গুজরাত এবং মহারাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রবল বৃষ্টির সৃষ্টি করেছিল। এবার বঙ্গোপসাগর ও পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন উপকূল এলাকায় নতুন একটি নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা আগামী কয়েকদিনে আরও শক্তিশালী হতে পারে।


এই নতুন নিম্নচাপের প্রভাবে ২৫ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন উপকূল এবং পূর্ব ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে গুজরাত, দক্ষিণ-পূর্ব রাজস্থান, উত্তর কঙ্কন, মহারাষ্ট্রের কিছু অংশ এবং উত্তর ভারতের পাহাড়ি রাজ্যগুলিতেও প্রবল বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।


আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যায়, নিম্নচাপ তৈরি হলে তা আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প টেনে আনে। সেই আর্দ্রতা সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখার সঙ্গে মিলিত হয়ে বড় আকারের মেঘ তৈরি করে এবং টানা কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এই কারণেই বর্ষা হঠাৎ করেই সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং একাধিক রাজ্যে ভারী বর্ষণ শুরু হয়।


এবারের বর্ষা অবশ্য শুরু থেকেই অনিয়মিত। ৪ জুন কেরলে বর্ষা প্রবেশ করলেও, এল নিনোর প্রভাবের কারণে জুন মাসে দেশের বহু অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম বৃষ্টি হয়েছে। মধ্য ও পশ্চিম ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে দীর্ঘদিন শুষ্ক আবহাওয়া বজায় ছিল। আবার জুলাইয়ের শুরুতে গুজরাত, ওড়িশা, কঙ্কন উপকূল এবং মহারাষ্ট্রে প্রবল বর্ষণে জলমগ্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে মুম্বইয়ে জল জমে জনজীবন ব্যাহত হয়।


তথ্য অনুযায়ী, বর্ষা এখন সক্রিয় হলেও সিজনের শুরু থেকে দেশের মোট বৃষ্টিপাত এখনও স্বাভাবিকের তুলনায় ঘাটতিতে রয়েছে। জুলাই মাসে গড় বৃষ্টিপাত দীর্ঘমেয়াদি গড়ের প্রায় ৯৪ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। তবে এই ধরনের নিম্নচাপ সক্রিয় থাকলে কয়েকদিনের মধ্যেই বৃষ্টির পরিমাণ দ্রুত বাড়তে পারে।


আগামী সপ্তাহে পশ্চিম ভারত, পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারত এবং পশ্চিম হিমালয় অঞ্চলে মেঘলা আকাশ, বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি এবং ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। গুজরাত, ওড়িশা, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ এবং জম্মু-কাশ্মীরের কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।


প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিচু এলাকা জলমগ্ন হওয়া, পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস, নদীর জলস্তর বৃদ্ধি এবং যান চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কা থাকায় সাধারণ মানুষকে আবহাওয়ার আপডেটের উপর নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের আশা, বর্ষার এই নতুন সক্রিয় পর্যায় দেশের বৃষ্টির ঘাটতি অনেকটাই কমাতে সাহায্য করবে, যদিও পুরো সিজন কতটা স্বাভাবিক হবে, তা নির্ভর করবে আগামী কয়েক সপ্তাহের আবহাওয়ার উপর।

&t=28s