আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজস্থানের দৌসা জেলা থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে নিখোঁজ হয়ে যায় চার বছরের শিশু। নাম প্রিন্স। বছর ছয় আগে নিখোঁজ হয় সে। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে যার কোনও হদিস মেলেনি। সেই ঘটনার তদন্তে এবার উঠে এসেছে শিউরে ওঠার মতো অভিযোগ। প্রিন্সকে নাকি খুন করেছিলেন তাঁরই কাকা অনিল ও কাকিমা কৃষ্ণা। পারিবারিক বিরোধের জেরে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের দাবি, যেদিন প্রিন্স নিখোঁজ হয়, সেদিনই তাকে হত্যা করা হয়েছিল। খুনের পর দু’দিন দেহ গোপন করে রাখা হয়। পরে গভীর রাতে দিল্লি–মুম্বই এক্সপ্রেসওয়েতে রাস্তার কাজের জন্য ফেলা মাটির নীচে দেহটি পুঁতে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ হলে জায়গাটি স্থায়ীভাবে ঢেকে দেওয়া হয়, ফলে এত বছর অপরাধ গোপনই থেকে যায়।
চাঞ্চল্যকর তথ্য হল, প্রিন্স নিখোঁজ হওয়ার পর গত ছয় বছর ধরে অভিযুক্ত কাকা-কাকিমা পরিবারের সঙ্গেই বসবাস করছিলেন। এমনকী শিশুটিকে খোঁজার অভিযানে কাকা-কাকিমাও হাত লাগিয়েছিলেন বলে পরিবারের দাবি। ফলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও রকম সন্দেহ করা হয়নি।
অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের পর, সম্ভাব্য কবরস্থানের জায়গা চিহ্নিত করে পুলিশ টানা দু’দিন ধরে খননকার্য চালাচ্ছে। দিল্লি–মুম্বই এক্সপ্রেসওয়ের একাংশে ভারী যন্ত্র ও জেসিবি মেশিন ব্যবহার করে মাটি খোঁড়া হচ্ছে। আধুনিক থ্রি-ডি ম্যাপিং প্রযুক্তির সাহায্যে সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।
প্রয়োজনে সড়কের বাঁধের নীচেও খনন চালাতে হতে পারে বলে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এনএইচএআই)-কে ইতিমধ্যেই চিঠি পাঠানো হয়েছে।
তবে এখনও পর্যন্ত শিশুটির দেহাবশেষ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বিস্তীর্ণ এলাকায় খোঁড়াখুঁড়ি চললেও পুলিশ নিশ্চিত প্রমাণের অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রিন্সের বাবা জগমোহন, যিনি দুবাইয়ে কর্মরত ছিলেন, খননের খবর পেয়ে দেশে ফিরে এসেছেন। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “ছেলেকে খুঁজতে গত ছয় বছরে বিভিন্ন রাজ্যে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা ব্যয় করেছি। এই আশায় যে একদিন ফিরে পাব। কিন্তু এখন, শুধুই দেহটা পাব। আর পড়ে রইল ন্যায় বিচার।”
পুলিশের কথা প্রকাশ্যে এলে এলাকায় গভীর ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তদন্ত এগোচ্ছে, আর পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে কী না, তা এখন সময়ই বলবে।
