আজকাল ওয়েবডেস্ক: পুর কর্পোরেশন অভ্যন্তরের বৈঠক হিসেবে যা শুরু হয়েছিল, ক্রমে তা পরিণত হল তুমুল রাজনৈতিক ও আদর্শগত সংঘাতে। বুধবার মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর পুরসভার দুই কংগ্রেস কাউন্সিলর ‘বন্দেমাতরম’ গাইতে রাজি না হওয়ায় বিধানসভার ভিতরে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। 

জানা গিয়েছে, অধিবেশন চলাকালীন কংগ্রেস কাউন্সিলর ফৌজিয়া শেখ আলিম ও রুবিনা ইকবাল ‘বন্দেমাতরম’ গাইতে রাজি হননি। এরপরেই উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় বিধানসভার অন্দরে। ফৌজিয়া সরাসরি স্পিকারের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে ‘বন্দেমাতরম’ গান গাওয়ার নির্দেশের আইনি ভিত্তি জানতে চান। তিনি সেই নির্দিষ্ট বিধি বা আইনটি দেখানোর জন্য জোর দেন, যেটিতে পৌর সংস্থার ভিতরে ‘বন্দেমাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্রশ্নটি শুনে বিজেপি কাউন্সিলররা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তাঁরা এই প্রশ্নটিকে জাতীয় অনুভূতির অপমান বলে আখ্যা দেন। এরপরেই স্লোগান দিতে শুরু করেন। কথার লড়াই শুরু হয় এবং বিধানসভায় তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় চেয়ারম্যান মুন্নালাল যাদব ফৌজিয়াকে বিধানসভা ত্যাগ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু ঝড় সেখানেই থামেনি।

বিধানসভার বাইরে বিতর্ক আরও তীব্র হয় যখন কংগ্রেস কাউন্সিলর রুবিনা ইকবাল সংবাদমাধ্যমের কাছে একটি বিস্ফোরক মন্তব্য করেন, “আমরা কারও ধমকের কাছে মাথা নত করি না, এমনকি তাদের বাবার কাছেও না।” তিনি ধর্মীয় যুক্তিতে নিজের অবস্থানের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, “আমাদের ইসলাম ধর্মে ‘বন্দেমাতরম’ গাওয়া নিষিদ্ধ। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমরা ‘সারে জাঁহা সে আচ্ছা, হিন্দুস্তান হামারা’ গাই না।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের কোরানে ‘বন্দেমাতরম’ নিষিদ্ধ। কারণ আমাদের কাছে একমাত্র আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ। ‘বন্দে’ মানে উপাসনা করা এবং ‘মাতরম’ বলতে মাকে বোঝায়। আমরা একমাত্র আল্লাহরই উপাসনা করি, তাহলে অন্য কারও উপাসনা কেন করব?”

শাসক দলকে কটাক্ষ করে রুবিনা আরও বলেন, “বিজেপির অনেক নেতা মুসলিমদের দোকান খুলতে দেন না। যদি তাই হয়, তাহলে তাদের ইরান থেকে তেল ও গ্যাস আমদানিও বন্ধ করা উচিত।” নিজের দলকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি রুবিনা। তিনি বলেন, “এটা আমার তৃতীয় মেয়াদ, এবং এই প্রথমবার আমি এমন একজন চেয়ারম্যানকে দেখলাম যিনি সম্পূর্ণ নীরব থাকেন। জাহান্নামে যাক কংগ্রেস পার্টি, ওরা মুসলমানদের শুধু ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে দেখে।” তিনি ঘোষণা করেন, “কংগ্রেস যদি আমাদের বহিষ্কার করে, আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব এবং জিতব। আমরা (আসাদুদ্দিন) ওয়াইসির দলেও যোগ দিতে পারি।”

বিজেপিও পিছু হটতে রাজি হয়নি। দলের নেতারা এফআইআর দায়ের করার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং মেয়র পুষ্যমিত্র ভার্গব ও চেয়ারম্যান মুন্নালাল যাদবের মধ্যে আলোচনা চলছে। বিজেপি নেতারা তীব্র আক্রমণ শুরু করেছেন এবং নগর সভাপতি সুমিত মিশ্র কংগ্রেসকে কোণঠাসা করতে ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনেছেন। এই বিতর্ক কংগ্রেসের অভ্যন্তরেও তীব্র বিভাজন সৃষ্টি করেছে।