আজকাল ওয়েবডেস্ক: মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET-UG) পরিচালনার দায়িত্ব থেকে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-কে (NTA) সরিয়ে কোনও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাকে সেই দায়িত্ব দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে কেন্দ্র, সিবিআই এবং এনটিএ-র জবাব তলব করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ২০২৬ সালের নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং পরীক্ষা বাতিলের আবহে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট এই পদক্ষেপ করেছে। বিচারপতি পি এস নরসিমা এবং বিচারপতি আলোক আরাধের ডিভিশন বেঞ্চে এই সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি আবেদনের শুনানি হয়, যেখানে এনটিএ-র বদলে অন্য সংস্থা আনা বা নিট পরীক্ষাকে পুরোপুরি কম্পিউটার-ভিত্তিক (CBT) করার মতো একাধিক দাবি জানানো হয়েছে।
শুনানির সময় পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থার ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করেছে, আগের ঘটনাগুলো থেকে কোনও শিক্ষাই নেওয়া হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার এবং শিক্ষা মন্ত্রককেও নোটিশ পাঠিয়েছে আদালত। এর আগে ২০২৪ সালের নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্কের পর আদালতের নির্দেশে যে নজরদারি কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তার বর্তমান স্থিতি এবং কার্যকারিতা নিয়েও এনটিএ-র কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে।
আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, তারা শুধু পরীক্ষা নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলছে না, বরং আগের নির্দেশ মেনে যে সংস্কার করার কথা ছিল, তা কেন বাস্তবায়িত হল না, সেটাই বড় প্রশ্ন। ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, আগের বার আদালতের হস্তক্ষেপের পর একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং তাদের সুপারিশও মেনে নেওয়া হয়েছিল। এরপরও কেন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে, তা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন বিচারপতিরা।
শীর্ষ আদালত এনটিএ-কে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে একটি হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, যেখানে স্পষ্ট করে জানাতে হবে যে পূর্বতন আদালতের নির্দেশ ও নজরদারি কমিটির সুপারিশগুলো কতটা পালন করা হয়েছে। একই সাথে, ইসরোর প্রাক্তন প্রধান ড. কে রাধাকৃষ্ণনের নেতৃত্বাধীন সেই মনিটরিং কমিটির চেয়ারম্যানকেও আদালতের নির্দেশাবলী মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিট পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নফাঁসের জেরে লক্ষ লক্ষ ডাক্তারি পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ ও মৌলিক অধিকার যেভাবে সংকটে পড়ছে, তা নিয়ে দায়ের হওয়া সমস্ত আবেদন খতিয়ে দেখে আগামী ২৯ মে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।















