আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিক্ষোভের মুখে আক্রান্ত অভিজিৎ। পরীক্ষা কেলেঙ্কারি এবং বেকারত্বের প্রতিবাদে সোমবার জয়পুরের শহীদ স্মারকে বিক্ষোভ সভার ডাক দিয়েছিলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। কিন্তু সভাস্থলে পৌঁছনো মাত্রই তাঁর ওপর হামলা চালায় দুই যুবক।
আগামী ২০ জুন দিল্লিতে এক বড় সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে দিপকের। তার আগে বিভিন্ন রাজ্যে জনসংযোগ সারছেন তিনি। সোমবার জয়পুরে সমর্থকদের কাঁধে চেপে যখন দিপকে সভাস্থলে ঢুকছিলেন, তখনই আচমকা তাঁর ওপর চড়াও হয় দুই জন। তাঁর গলার উত্তরীয় ধরে টান মেরে মুখ লক্ষ্য করে একের পর এক চড় মারা হয়। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ সমর্থকরা পাল্টা মারধর করে দুই হামলাকারীকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ তাদের আটক করেছে।
এই হামলায় তিনি যে দমে যাওয়ার পাত্র নন, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন সিজেপি নেতা। মঞ্চে দাঁড়িয়ে দিপকে বলেন, “আমার ওপর যতবারই হামলা হোক না কেন, আমি হাত তুলব না। কাপুরুষেরাই হিংসার আশ্রয় নেয়।”
বিরোধীদের তোপ দেগে তিনি বলেন, “আপনারা আমাকে, আন্দোলনকারীদের, এমনকী প্রশ্ন তোলা সাংবাদিকদেরও পাকিস্তানি দাগিয়ে দিচ্ছেন! কিন্তু এই কৌশলে আমাদের ভয় দেখানো যাবে না। যুবসমাজের অধিকারের লড়াই চলবেই।”
পরে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এক ভিডিও বার্তায় দিপকে দাবি করেন, মূল সমস্যা থেকে নজর ঘোরাতেই এই হামলা। সমর্থকদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “পড়ুয়াদের ওপর হওয়া অন্যায় এবং ছাত্র-আত্মহত্যার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ইস্তফা দিতেই হবে। আমাদের দশবার চড় মারলেও এই দাবি থেকে আমরা সরব না।”
মেডিক্যালের প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আমেরিকা থেকে দেশে ফিরে আন্দোলনের হাল ধরেছেন দিপকে। জয়পুরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন- প্রধানমন্ত্রী পড়ুয়াদের পাশে থাকবেন নাকি তাঁর মন্ত্রীর পাশে? কটাক্ষের সুরে তিনি আরও বলেন, যে দেশ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামিয়ে দেওয়ার দাবি করে, সেই দেশ কেন একটা প্রশ্নফাঁস রুখতে পারে না?
Don’t get distracted.
— Abhijeet Dipke (@abhijeet_dipke)
Dharmendra Pradhan Must Resign! pic.twitter.com/4McbyvVqT3Tweet by @abhijeet_dipke
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, হামলার সময় স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ছিল। সিজেপি-র রাজ্য মুখপাত্র অভিষেক জৈন বিট্টু বলেন, “যেভাবে এই হামলা হল, তাতে পুলিশ ও সরকারের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।” দলের অন্য এক মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা জানান, প্রচণ্ড রোদে যাতে মানুষ জড়ো হতে না পারেন, সেজন্য প্রশাসন তাঁদের দুপুর ৩টের সময় স্লট দিয়েছিল। কিন্তু গরম উপেক্ষা করেও মানুষের বিপুল উপস্থিতি বুঝিয়ে দিয়েছে যে এই লড়াই থামবে না।
অন্য এক এক্স পোস্টে দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস দাবি করেন, হামলাকারীরা শাসকদলের সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, “ভয় দেখিয়ে ন্যায্য দাবি স্তব্ধ করা যাবে না। আমাদের লক্ষ্য একটাই- ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ!” নীলম ক্রান্তি নামে এক বিক্ষোভকারীর অভিযোগ, গোলমাল শুরু হতেই তাঁরা পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন, কিন্তু পুলিশ শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে।
সোমবারের এই সমাবেশে ছাত্র ও বেকার যুবকদের পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীদের পরিবারগুলিও শামিল হয়েছিল। উপস্থিত ছিল সিকারের এক ছাত্রের পরিবার, যে নিট প্রশ্নফাঁসের জেরে মানসিক অবসাদে আত্মহত্যা করে।
পরিবারটি ভস্ম সঙ্গে নিয়ে সমাবেশে যোগ দেয়। এছাড়া, গত বছর জয়পুরের এক বেসরকারি স্কুল ভবন থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করা ৯ বছরের শিশুকন্যা আমায়রার পরিবারও এই আন্দোলনে অংশ নেয়। হনুমানগড় থেকে আসা অন্নু সিহাগ নামে এক মা তাঁর তিন বছরের মেয়েকে কোলে নিয়ে বলেন, “চারপাশে অন্যায় দেখে চুপ করে থাকতে পারলাম না। ছাত্রদের কণ্ঠস্বর শুনতেই হবে এবং শিক্ষামন্ত্রীকে ইস্তফা দিতেই হবে।”















