আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থতায় শয্যাশায়ী। হাসপাতালের শয্যায় শুয়েই মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েছেন। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। জরুরি ভিত্তিতেও ব্যাঙ্ক থেকে তোলা গেল না টাকা। চিকিৎসার অভাবেই মর্মান্তিক পরিণতি এক বৃদ্ধের। 

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়খণ্ডের গাড়ওয়া জেলায়। আদিবাসী ওই বৃদ্ধের নাম, রতন লকরা। পরিবারের দাবি, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ই-কেওয়াইসি করা ছিল না। কেওয়াইসি করার পরেও ঝাড়খণ্ড গ্রামীণ ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলা যায়নি। টাকার অভাবেই বিনা চিকিৎসায় প্রাণ হারিয়েছেন রতন। 

 

এই ঘটনার পরেই সোমবার ঝাড়খণ্ড গ্রামীণ ব্যাঙ্কের সামনেই তাঁর মৃতদেহ নিয়ে বিক্ষোভ দেখান পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিবারের আরও অভিযোগ, ব্যাঙ্কের গাফিলতির কারণেই সময়মতো টাকা পাননি রতন। 

 

তাঁরা আরও জানিয়েছেন, রতনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ছিল। কিন্তু ই-কেওয়াইসি করা ছিল না। যার জন্য দীর্ঘদিন ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলতে পারেননি তিনি। যে সময় তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে কেওয়াইসি আপডেট করা হয়, ততক্ষণে বিনা চিকিৎসায় মারা যান রতন। সময় মতো ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলতে না পারায়, ঝাড়খণ্ড গ্রামীণ ব্যাঙ্কের সামনেই গিয়ে মৃতদেহ নিয়ে বিক্ষোভ দেখান পরিবারের সদস্যরা। 

 

পরিবারের আরও অভিযোগ, ব্যাঙ্কের ম্যানেজার তিন মাস ধরে তাঁকে কেওয়াইসি আপডেট করানোর জন্য হেনস্থা করেছেন। দিনের পর দিন ব্যাঙ্কে গিয়েছিলেন, কিন্তু কেওয়াইসি আপডেট করা যায়নি। নির্দেশ মতো অসুস্থ রতনকে নিয়েও ব্যাঙ্কে যাওয়া হয়। কেওয়াইসি আপডেট করার পরেও ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলার জন্য আরও ছোটাছুটি করতে হয় তাঁদের। তা সত্ত্বেও সময়মতো ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলা যায়নি। 

 

ঝাড়খণ্ড গ্রামীণ ব্যাঙ্ক থেকে সরকারি পেনশন পেতেন রতন। চিকিৎসার জন্যেই সেই টাকা ব্যয় করতেন। গত সোমবার বিনা চিকিৎসায় প্রাণ হারান তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদে ফেটে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। 

 

অন্যদিকে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ব্যাঙ্কের ম্যানেজার। তিনি জানিয়েছেন, কেওয়াইসি আপডেট করার পর পরিবারের তরফে কেউ আর ব্যাঙ্কে টাকা তুলতে আসেননি। এই অভিযোগ মিথ্যে বলেই দাবি করেছেন তিনি।