আজকাল ওয়েবডেস্ক: পেট্রলে ইথানল মেশানো নিয়ে তোলপাড় দেশজুড়ে। মাত্র তিন বছরের মধ্যেই পেট্রলে ১০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে জনগণের মধ্যে। সূত্রের খবর, নতুন করে পেট্রলে যে ২৫ শতাংশ ইথানল মেশানোর পরিকল্পনা করেছিল কেন্দ্র, তা আপাতত স্থগিত রাখা হতে পারে। এমনটাই জানা গিয়েছে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে।

 

পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রল বা ই-২০ পেট্রল চালুর কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই বর্তমানে দেশজুড়ে ই-২০ পেট্রল জ্বালানি হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে।

 

এ দিকে, ই-২৫ জ্বালানি চালুর কোনও দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা করেনি কেন্দ্র। তবে গত দেড় মাসে গৃহীত দু'টি সরকারি সিদ্ধান্ত গাড়ি নির্মাতা ও চালকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। প্রথমত, ২২ থেকে ৩০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির ওপর কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্কে ছাড় এবং দ্বিতীয়ত, ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস বা বিআইএস-এর মাধ্যমে এই জ্বালানির মান নির্ধারণ করা। এই দুই পদক্ষেপ দেখে অনেকেরই ভাবনা, সরকার খুব দ্রুত জ্বালানি বাজারকে ই-২৫ চালুর জন্য প্রস্তুত করতে চাইছে।

 

অন্য দিকে, পাঁচ বছর আগেই ই-২০ জ্বালানি চালু করে দিয়েছে কেন্দ্র। এর ফলে গাড়ি ও বাইক চালকদের একটি বড় অংশ বিপাকে পড়েছেন। তাদের মূল অভিযোগ, ইথানলের ক্যালোরিফিক মান পেট্রলের চেয়ে কম হওয়ায় গাড়ির মাইলেজ বা তেল সাশ্রয়ের ক্ষমতা অনেকটাই কমে গিয়েছে। এ ছাড়া, পুরোনো গাড়ি এবং যে গাড়িগুলি ই-১০ জ্বালানির উপযোগী করে তৈরি হয়েছিল, সেগুলির ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়াও ইথানল পেট্রলের চেয়ে উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বলে। ফলে শীতকালে সকালের দিকে অনেক সময়ই এই জ্বালানির জন্য গাড়ি স্টার্ট হতে সমস্যা দেখা যায়।

 

অটোমোবাইল সংস্থাগুলির মতে, ইথানলের একটি বড় ধর্ম, এটি বাতাস থেকে জলীয় বাষ্প শুষে নেয়। এর ফলে ইঞ্জিনের ভেতরে মরচে ধরা বা ক্ষয় ধরার সম্ভাবনা থাকে। ই-২৫ জ্বালানি সম্পূর্ণ ভাবে চালু করতে হলে গাড়ি নির্মাতাদের ইঞ্জিনের ক্যালিব্রেশন, ফুয়েল সিস্টেমের স্থায়িত্ব এবং সুরক্ষার ওপর নতুন করে গবেষণা ও পরীক্ষানিরীক্ষা চালাতে হবে, যা বেশ সময়সাপেক্ষ। তাড়াহুড়ো করলে বরং উল্টে ক্ষতি হতে পারে।

 

জনমানসে এই তীব্র প্রতিক্রিয়ার জেরে গত সপ্তাহে সরকার উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক করে। সেখানে এই সমস্যাগুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়। সরকারি কর্মকর্তাদের একাংশের মতে, কিছু কিছু আশঙ্কার কথা একটু বাড়িয়ে বলা হচ্ছে। তবে প্রকৃত সমস্যাগুলির সমাধানর পথ ভাবতে হবে। পাশাপাশি, গাড়ি নির্মাতাদের সময় দিতে হবে। পুরো পরিকাঠামোতেও বদলরেও প্রয়োজন রয়েছে। তাই ধীরে ধীরে সুপরিকল্পিত ভাবে ই-২৫ জ্বালানি বাজারে আনা হবে।