আজকাল ওয়েবডেস্ক: বঙ্গভোটের প্রাক্কালে, সমানে এল দু'জনের চিঠি। পত্র, পাল্টা পত্র। নরেন্দ্র মোদি এবং মল্লিকার্জুন খাড়গে। ভোটের প্রাক্কালে সেই চিঠি নিয়ে রাজনৈতিক চর্চাও বিস্তর। জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চিঠির প্রত্যুত্তরে চিঠি দিয়েছেন কংগ্রেসের খাড়গে।

 

চিঠিতে মোদি লিখেছেন, আগামী ১৬ই এপ্রিল থেকে সংসদে নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম সম্পর্কিত একটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। চিঠিতে উল্লিখিত, 'এই বিশেষ অধিবেশনটি আমাদের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করার একটি সুযোগ। এটি সকলকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করারও একটি মুহূর্ত। আমি এই মনোভাব ও উদ্দেশ্য নিয়েই আপনাকে এই চিঠিটি লিখছি।' 

 

 

মোদি চিঠিতে লিখেছেন, 'যেকোনও সমাজ তখনই উন্নতি করে যখন নারীরা উন্নতি করার, সিদ্ধান্ত নেওয়ার এবং, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পায়। ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য, এই যাত্রাপথে নারীদের আরও বৃহত্তর ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করা অপরিহার্য। আজ আমরা সকলেই জনজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ প্রত্যক্ষ করছি। মহাকাশ থেকে খেলাধুলা, সশস্ত্র বাহিনী থেকে স্টার্ট-আপ পর্যন্ত, ভারতের মেয়েরা প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছে। তাদের কঠোর পরিশ্রম এবং সংকল্পের মাধ্যমে তারা নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করছে। সংসদ এবং রাজ্য বিধানসভাগুলিতে নারীদের জন্য সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়ে কয়েক দশক ধরে আলোচনা চলছে। ২০২৩ সালে, বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যরা সংসদে 'নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম'-কে সমর্থন করার জন্য একত্রিত হয়েছিলেন। এটি ছিল একটি স্মরণীয় মুহূর্ত যা আমাদের ঐক্যকে প্রতিফলিত করেছিল।'

 

মোদির এই চিঠির পাল্টা চিঠি লিখেছেন খাড়গে। কী লিখলেন তাতে? লিখলেন, বিরোধী দলগুলিকে নিয়ে ২৯ এপ্রিল, অর্থাৎ রাজ্যগুলির বিধানসভা ভোট মিটে যাওয়ার পর, বৈঠক ডাকা হোক। সঙ্গেই কড়া প্রত্যুত্তরে কংগ্রেস নেতা লিখলেন, 'নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম, ২০২৩ ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছিল। সেই সময়ে, আমি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করেছিলাম যে এই গুরুত্বপূর্ণ আইনটি অবিলম্বে কার্যকর করা হোক। যদিও আপনি আপনার চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে এর অবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য ব্যাপক ঐকমত্য ছিল, আপনি তা বাস্তবায়ন করেননি।' 

তারপর থেকে ৩০ মাস কেটে গেছে, এবং এখন আমাদের আস্থায় না নিয়েই এই বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে এবং আপনার সরকার যে সীমানা নির্ধারণ করা হবে তার কোনো বিবরণ প্রকাশ না করেই আবার আমাদের সহযোগিতা চাইছে। আপনি নিশ্চয়ই বুঝবেন যে সীমানা নির্ধারণ এবং অন্যান্য দিকগুলির বিবরণ ছাড়া এই ঐতিহাসিক আইনটি নিয়ে কোনো ফলপ্রসূ আলোচনা করা অসম্ভব।' 

খাড়গে লিখেছেন, 'চলমান রাজ্য নির্বাচনের সময় বিশেষ অধিবেশন ডাকার বিষয়টি আমাদের এই বিশ্বাসকেই আরও দৃঢ় করে যে, আপনার সরকার নারীদের প্রকৃত ক্ষমতায়নের পরিবর্তে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য বিলটি বাস্তবায়নে তাড়াহুড়ো করছে। আমি আরও দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে, তা বিমুদ্রাকরণ, জিএসটি, আদমশুমারি বা এমনকি অর্থ কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং কর বণ্টনের মতো যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো-সম্পর্কিত বিষয়ই হোক না কেন, সরকারের অতীত কর্মকাণ্ড কোনও আস্থা জাগায় না। পরিকল্পিত সাংবিধানিক সংশোধনীগুলি কেন্দ্র এবং রাজ্য উভয়কেই প্রভাবিত করবে এবং একটি গণতন্ত্রে সমস্ত দল ও রাজ্য, তারা যতই ছোট হোক না কেন, তাদের কথা শোনা হওয়াটা জরুরি।'

 

চিঠির শেষ অংশে লিখেছেন, 'আপনার চিঠিতে যেমন লেখা আছে, যদি এই বিশেষ অধিবেশনের উদ্দেশ্য "আমাদের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা" এবং "সবাইকেসঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া" হয়, তাহলে আমি পরামর্শ দেব যে সরকার ২৯শে এপ্রিলের পরে যেকোনও সময় একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকুক, যেখানে ২০২৩ সালের নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়মের সংশোধনের বিষয় নিয়ে আলোচবা হোক।'