আজকাল ওয়েবডেস্ক: টাকার লোভে ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে খুনের পরিকল্পনা। জ্যোতিষীর সঙ্গে যুবকের কথোপকথন শুনেই শিউরে উঠেছিলেন তিন বন্ধুরা। কয়েক ঘণ্টা পরেই যুবকের মর্মান্তিক পরিণতি হল বন্ধুদের হাতেই। হাড়হিম হত্যাকাণ্ড যোগীরাজ্যে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে। শনিবার পুলিশ জানিয়েছে, ৩৫ বছরের এক যুবককে পরিকল্পনামাফিক খুনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর তিন বন্ধুর বিরুদ্ধে। গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে আঘাত করে, যুবকের গায়ে আগুন জ্বালিয়ে, তিন বন্ধু মিলে খুন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিন বন্ধুর আশঙ্কা ছিল, আরও ধনী হওয়ার জন্য তিনজনের মধ্যে একজনকে তিনি খুন করতে পারেন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ৩৫ বছরের মৃত যুবকের নাম, নবীন। পেশায় অটোরিক্সা চালক ছিলেন। মঙ্গলবার এক জ্যোতিষীর কাছে গিয়েছিলেন নবীন। সঙ্গে ছিলেন তাঁর তিন অটোরিক্সা চালক বন্ধু পবন, সাগর, নাসিম। তিন বন্ধুই শুনেছিলেন ওই জ্যোতিষীর পরামর্শ। ওই জ্যোতিষী নবীনকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, কাছের কোনও মানুষকে খুন করলে তিনি দ্রুত ধনী হবেন। বিরাট অর্থপ্রাপ্তি ঘটবে। এমনকী নবীন জানিয়েছিলেন, কোনও বন্ধুকে খুন করলে, অর্থপ্রাপ্তি ঘটবে কিনা। জ্যোতিষী তাতে রাজি ছিলেন।
সেই রাতেই সাগরের বাড়িতে বন্ধুরা মিলে মদ্যপান করেন। সেখানেই জ্যোতিষীর দেওয়া পরামর্শ নিয়ে ঝামেলা শুরু হয়। নবীনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন সকলে। তিন বন্ধুর আশঙ্কা ছিল, জ্যোতিষীর পরামর্শে টাকার লোভে তিনজনের মধ্যে একজনকে খুন করবেন নবীন।
সেই রাতেই গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে নবীনের মাথায় ও গায়ে আঘাত করেন তিন বন্ধু। মৃত্যু নিশ্চিত হতেই কম্বলে দেহটি জড়িয়ে, সেই অটোরিক্সায় তুলে, নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দেন। পুড়ে খাক হয়ে যায় অটোরিক্সা ও দেহ। বুধবার সেই দগ্ধ দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, দুই বন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরেক অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চলছে।
গত মাসে আরেকটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল নয়ডায়। টাকার জন্য নৃশংস হত্যাকাণ্ড। মত্ত অবস্থায় এক কোপে তরুণের মুণ্ডু কেটে ফেলেছিলেন বন্ধুরা। এরপর ভিন জেলায় দেহ ভাসিয়ে দেন। যে ঘটনায় শিউরে উঠেছিল পরিবার, ও স্থানীয়রাও।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছিল উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরে। পুলিশ জানিয়েছিল, ২০ বছর বয়সি এক তরুণকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বন্ধুদের বিরুদ্ধে। তরুণের মুণ্ডু কেটে মহারাজগঞ্জ জেলায় একটি খালে দেহ ভাসিয়ে দেন বন্ধুরা। সোমবার সন্ধ্যায় তরুণের মুণ্ডু ও দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পাশাপাশি দুই অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
মৃত তরুণের নাম, অম্বুজ। তিনি সূর্য বিহার কলোনির বাসিন্দা ছিলেন। গত ২৬ নভেম্বর বিকেলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। এক বিয়েবাড়িতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। ফোনটিও বন্ধ ছিল। অবশেষে ২৮ নভেম্বর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে পরিবার।
তদন্তে নেমে অম্বুজের বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। দীর্ঘ জেরায় এক বন্ধু জানায়, মত্ত অবস্থায় বন্ধুদের সঙ্গে অম্বুজের টাকা নিয়ে ঝামেলা হচ্ছিল। রাগের মাথায় তাঁকে কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে খুন করেন তাঁরা। এক কোপে মুণ্ডু কেটে নেন। এরপর দেহ ও মুণ্ডু নিয়ে মহারাজগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেন তাঁরা। মুণ্ডুটি একজায়গায় ফেলে, ১০ কিলোমিটার দূরে আরেকটি খালে দেহ ভাসিয়ে দেন।
দেহের টুকরো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। অম্বুজের দুই বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে তারা। আরেকজনের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চলছে। ধৃতদের বয়স ১৯ থেকে ২১ বছরের মধ্যে বলে জানা গেছে।
