আজকাল ওয়েবডেস্ক: টায়ার ফেটেই ঘটল বিপত্তি। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লরিতে সজোরে ধাক্কা বাসের। সংঘর্ষের জেরেই দাউদাউ করে জ্বলে উঠল বাস ও লরি।‌ দুর্ঘটনায় একের পর এক মৃত্যু ফের। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশে। পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে নন্দিয়াল জেলায় বেসরকারি একটি বাসের সঙ্গে লরির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পরেই বাস ও লরিতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে শুরু করে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এখনও পর্যন্ত। 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনাটি ঘটেছে রাত দেড়টা নাগাদ। বেসরকারি বাসটি অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর থেকে তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদের দিকে যাচ্ছিল। মাঝ পথে আচমকাই বাসের টায়ার ফেটে যায়। এর জেরেই আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন বাসের চালক। ডিভাইডারে সজোরে ধাক্কা দিয়ে উল্টোদিক থেকে আসা লরিতে সজোরে ধাক্কা মারে বাসটি। 

লরিটিতে মোটরসাইকেল বোঝাই করা ছিল। সংঘর্ষের জেরে বাস ও লরি, দু'টিতেই ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ড ঘটে। বাসের কন্ডাক্টর, চালক, সহকারী, স্থানীয় বাসিন্দারা জানলা ভেঙে যাত্রীদের কোনও মতে উদ্ধার করেন। জানা গেছে, উদ্ধারকাজের সময়েই অগ্নিদগ্ধ হন তাঁরা। দগ্ধ হয়ে বাসের চালক, লরির চালক এবং বাসের এক কর্মী মারা যান। 

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহগুলি সরকারি হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। বাসের যাত্রীরা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। বাসটিতে ৩৬ জন যাত্রী ছিলেন। চারজনের হাড় ভেঙে গেছে। কেউই অগ্নিকাণ্ডের জেরে দগ্ধ হননি। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে বাসে অগ্নিকাণ্ডের জেরে রাজ্যে রাজ্যে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। বহু যাত্রীর প্রাণহানিতে মৃত্যুমিছিল। অক্টোবর মাসেই হায়দরাবাদ থেকে বেঙ্গালুরুগামী একটি প্রাইভেট স্লিপার বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ইতিমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের, যার মধ্যে ১৯ জন যাত্রী ও এক মোটরসাইকেল আরোহী ছিলেন। শুক্রবার গভীর রাতে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে, যখন বাসটি একটি বাইকে ধাক্কা মেরে আগুনে পুড়ে যায়।

অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর বাসের নিচে আটকে পড়া দুই-চাকার গাড়িটির পেট্রোল ট্যাংক বিস্ফোরিত হয়, যা থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো গাড়িতে। পরবর্তীতে বাসে থাকা দুটি ১২ কেভি ব্যাটারি ও প্রচুর পরিমাণে স্মার্টফোনের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি আগুনের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়।

ফরেনসিক ও অগ্নি নির্বাপক দপ্তরের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বাসটিতে প্রায় ২৩৪টি স্মার্টফোন ছিল, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪৬ লক্ষ টাকা। হায়দরাবাদের এক ব্যবসায়ী এই ফোনগুলো লজিস্টিক সার্ভিসের মাধ্যমে বেঙ্গালুরু পাঠাচ্ছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগুন লাগার পর ফোনগুলির লিথিয়াম ব্যাটারি একে একে বিস্ফোরিত হতে থাকে, ফলে আগুন মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে পুরো কেবিন জুড়ে। 

ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল কোয়া প্রভীন বলেছেন, আগুনের প্রধান উৎস ছিল বাসের দুটি ১২ কেভি ব্যাটারি। তিনি জানান, “বাইকের ফুয়েল ট্যাংকটি প্রথমে বিস্ফোরিত হলেও সেটি আগুনের মূল কারণ নয়। আগুনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল বাসের মূল দরজার পাশে থাকা দুটি ব্যাটারি, যেগুলো বিস্ফোরিত হয়ে অগ্নিকাণ্ডকে মারাত্মক করে তোলে।”