আজকাল ওয়েবডেস্ক: চুরিতে দক্ষ হতে হবে। তাহলেই মিলবে মাসিক বেতন, খাওয়া-দাওয়া ও বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার গাড়িভাড়া! যেন কর্পোরেট সংস্থা। সম্প্রতি মোবাইল চুরি চক্রের এমন এক বড় চক্রের হদিশ ফাঁস করল উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর পুলিশ।
অভিজ্ঞতা আর দক্ষতার ভিত্তিতে চোরেদের বেতন নির্ধারিত হয়ে থাকে। গোরক্ষপুর জিআরপি-র পুলিশ সুপার সন্দীপ মীনা জানিয়েছেন, চোরেদের এই চক্র মূলত ঝাড়খণ্ডের। এই দলের মূল পাণ্ডা মনোজ মণ্ডল (৩৫)। মনোজের দুই শাগরেদ করণ কুমার ও তাঁর ভাই। গোরক্ষপুর রেলস্টেশন থেকে এই তিন জনকেই ধরেছে পুলিশ। বাকিদের খোঁজে চলছে তল্লাশি। ধৃতদের কাছ থেকে ৪৪টি মোবাইল ফোন, নগদ ১০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে।
পুলিশি জেরায় মনোজ মণ্ডল জানিয়েছে, তাঁর মাসিক বেতন ১৫ হাজার টাকা। দলের বেশ কয়েকজন চোর রয়েছে। যাদের হাতসাফাইয়ের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, দিনে কতগুলি করে মোবাইল চুরি করছে, তার সংখ্যার ভিত্তিতে বেতন নির্ধারণ করা হয়। এর বাইরেও রয়েছে বিনামূল্যে খাবার এবং বাসস্থান, যাতায়াতের জন্য গাড়িভাড়া। সকলেরই বেতন ৫ থেকে ১৫ হাজারের মধ্যে। পুলিশি রিপোর্ট অনুযায়ী, মনোজের বিরুদ্ধে চারটি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। করমের বিরুদ্ধে রয়েছে দু'টি।
চোর নিয়োগের জন্য মনোজ মূলত তাঁর নিজের গ্রাম সাহেবগঞ্জ থেকে অল্পবয়সি ছেলেদের দলে নিয়োগ করতেন। মনোজ। যাদের পরিবারে অভাব অনটন রয়েছে, পড়াশোনা বেশি দূর হয়নি, তাদেরই নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া হত। তিন মাস ধরে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর ছোট ছোট লক্ষ্যে স্থির করে কাজে পাঠানো হত। লক্ষ্য পূরণে সফল হলেই মাসিক বেতনপ্রাপ্ত কর্মী হিসাবে তাদের দলে নিয়োগ করা হয়।
চোরেদের দলের মূল শিকারের জায়গা, গোরক্ষপুর, সন্ত কবীর নগর, মহারাজগঞ্জ এবং কুশীনগরের জমজমাট বাজার বা রেল স্টেশন এলাকা। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চোরেরা মূলত মানুষের ভিড়ে মিশে হাতসাফাই চালায়।
