আজকাল ওয়েবডেস্ক: লালকেল্লার সামনে গাড়ি বিস্ফোরণের তদন্তে শুধুই বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি নয়, একটি সাজানো 'হোয়াইট কলার টেরর মডিউল'-এর অস্তিত্ব মিলেছে। এই নেটওয়ার্কের মূল চক্রী হিসেবে ছিল কাশ্মীরের তরুণ চিকিৎসক উমর-উন নবি। তদন্তে দেখা যাচ্ছে যে, নবি শুধু জঙ্গি কার্যকলাপেই জড়িত ছিল না, বরং একাধিক আত্মঘাতী হামলাকারীকে নিয়োগ করারও চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সকলেই পরিকল্পনা থেকে সরে যায় সকলে। ফলে পরিকল্পনা সফল করতে নিজেই আত্মঘাতী হামলাকারীর ভূমিতকা পালন করে, পৌছে গিয়েছিল লালকেল্লার কাছে।
শ্রীনগর পুলিশ ও এনআইএ-র তদন্তে জানা গিয়েছে যে, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের আগে থেকেই নবি আলাদা একটি আত্মঘাতী স্কোয়াড তৈরি করছিলেন। প্রথমে দক্ষিণ কাশ্মীরের শোপিয়ানের বাসিন্দা ইয়াসির আহমেদ দারকে আত্মঘাতী হামলার জন্য তৈরি করেছিলেন তিনি। ইয়াসির তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, নবি একজন চিকিৎসক হওয়ায় তাঁর কথায় অনেকেই সহজেই ভরসা করতেন। ২০২৩ থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ইয়াসিরের। নিয়মিত তাদের মধ্যে টেলিগ্রামে কথাবার্তা, শরীরচর্চার পরামর্শ আদানপ্রদান হত। এসবের মাধ্যমেই ইয়াসিরকে আত্মঘাতী হামলার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করছিল নবি।
কিন্তু গত বছরের অগাস্টে, হামলার আগে ইয়াসির হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে যান। তার ঘরে মেরামতির কাজ চলছিল আর আপেল তোলার মরসুম ছিল। সেই সময় বাড়িতে থাকা এবং পরিবারের সাহায্য করা তাঁর কাছে বেশি জরুরি ছিল বলেই তার পরিকল্পনা থেকে সরে যাওয়া বলে তদন্তকারীদের সে জানায়।
ইয়াসিরের মতোই আরও একজন যুবক জাসির ওরফে দানিশকে আত্মঘাতী হামলার জন্য প্রস্তুত করছিলেন নবি। সেও শেষমেশ পিছিয়ে যায। জাসিরের যুক্তি ছিল, সে আর্থিক সংকট রয়েছে এবং তাঁদের ধর্মে আত্মহত্যা নিষিদ্ধ।
তদন্তে আরও তথ্য উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে যে, নবি ও তাঁর সহযোগী ড. মুজাম্মিল গনাই ২০২১ সালে তুরস্কে গিয়ে জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের ওভারগ্রাউন্ড কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারপর থেকেই তাঁরা বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক সংগ্রহ করে। বিস্ফোরণের জন্য ৩৬০ কেজিরও বেশি রাসায়নিক মজুত ছিল ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে।
তদন্তকারীদের ধারণা, ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বর্ষপূর্তির দিন দিল্লি বা ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ কোনও স্থানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল নবির। তবে পরিকল্পনা সফল হয়নি।
গত বছর অক্টোবর মাসে শ্রীনগরের নওগামে জইশের পোস্টার উদ্ধার হওয়ায় তদন্ত শুরু হয়। সিসিটিভি দেখে তিন যুবককে আটক করে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে সামনে আসে মৌলভি ইরফান আহমেদ-সহ একাধিক নাম। মৌলভি ইরফানই পোস্টার সরবরাহ করতেন ও চুকিৎসকদের মাধ্যমে জঙ্গি মতাদর্শ ছড়িয়ে দিত।
এই তদন্তের পরেই ধীরে ধীরে ফাঁস হয় চিকিৎসক নবি নেতৃত্বাধীন পুরো 'হোয়াইট কলার টেরর নেটওয়ার্ক'। লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের ঘটনায় ইতিমধ্যেই একাধিক গ্রেফতার হয়েছে। এনআইএ আরওএই জঙ্গিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোনও নেটওয়ার্কের যোগ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে।
