আজকাল ওয়েবডেস্ক: একটা গোটা গ্রাম। শ’য়ে শ’য়ে বাড়ি। কিন্তু, কোনও বাড়ির দরজা নেই। বাড়ির যে অংশে দরজা থাকার কথা, সেই জায়গাটা পুরো খোলা। এই গ্রামের প্রতিটা বাড়িই একই রকম।

প্রতি বছর হাজারে হাজারে পর্যটক আসেন এই গ্রাম দেখতে। কথিত আছে বছরের পর বছর কোনও দরজা ছাড়া কাটালেও চুরি, ডাকাতি কিছুই হয় না গ্রামটায়। বিস্ময়কর এই গ্রামটি অবস্থিত মহারাষ্ট্রে, যার নাম শনি শিংনাপুর। 

জানা যায়, এই গ্রামের একাধিক বাড়িতে সোনা, গয়না, টাকা-পয়সা ইত্যাদি খোলা অবস্থাতেই পড়ে থাকে। তেমন উল্লেখযোগ্য কোনও নিরাপত্তাও নেই, কারওর ভ্রুক্ষেপও নেই। এমনকী, বাড়িতে দরজাও থাকে না।

অথচ, কোনওদিন একটা কানাকড়িও এদিক ওদিক হয়নি। এখানকার মানুষরা তালা ছাড়াই দিব্যি সুখে দিনযাপন করছেন। কেউ দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেন না তাঁদের কোনও জিনিস চুরি যেতে পারে।

কিন্তু কেন দরজার প্রয়োজন পড়ে না? সেটা জানতে হলে ৩০০ বছর পিছিয়ে যেতে হবে। সময়টা তখন ভরা বর্ষা। গ্রামের মানুষ গিয়েছিলেন পাঁশনালা নদীর ধারে। কারণ, ভারী বর্ষায় নদীর জল ভিতর থেকে উঠে এসেছে একটা ঢাউস কালো পাথর।

গ্রামবাসীরা যখন পাথরটা ছুঁয়ে দেখলেন, তখন পাথর থেকে চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ল খানিকটা রক্ত। সেইদিন রাতেই ওই গ্রামের প্রধান একটা স্বপ্ন দেখেন। তিনি দেখেন, পাথরের রূপ ধরে তাঁদের গ্রামে শনি দেব এসেছেন।

স্বপ্নেই নাকি শনি দেব জানান, গোটা গ্রামকে তিনি রক্ষা করবেন। সেই থেকে শনি দেবের ধারক হয়ে এই পাথর থেকে যায় তাঁদের গ্রামে। কিন্তু দরজা কেন খোলা থাকে? বলা হয়, স্বপ্নাদেশে শনি দেব আদেশ করেছিলেন, তাঁকে কোনও বদ্ধ জায়গায় তাঁকে রাখা যাবে না।

খোলা জায়গায় রাখতে হবে, যাতে গোটা গ্রামের সকলের মঙ্গল তিনি করতে পারেন। সেই থেকে মানুষ দরজা খুলে রাখতে শুরু করেন। তাঁদের বিশ্বাস ছিল, যদি কোনও সমস্যা আসেও, শনি দেবতা রয়েছেন তাঁদের রক্ষা করার জন্য।

আজও, গ্রাম জুড়ে একই বিশ্বাস চলে আসছে। সেখানকার মানুষ আজও বিশ্বাস করেন, যদি কেউ চুরি রাহাজানি করতে চায়, তাহলে তৎক্ষণাৎ তাঁর চোখ অন্ধ হয়ে যাবে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে এই গ্রামের কোনও বাড়িতেই দরজা ছিল না। এমনকী, ২০১১ সালে একটি ব্যাঙ্ক খোলা হয় গ্রামে। সেই ব্যাঙ্কেও সামান্য তালা চাবির নামমাত্র ব্যবহার করা হত।

গ্রামের বিশ্বাসকে মর্যাদা দিয়েই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে শোনা গিয়েছে, কিছু পরিবার গ্রামের মোড়লের কাছে অনুমতি চাইছেন তাঁদের বাড়িতে দরজা ব্যবহার করার জন্য। হয়তো, এই ৩০০ বছরের ঐতিহ্য ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে।