আজকাল ওয়েবডেস্ক: ১৫৫৬ সালের ২৩ জানুয়ারি। চীনের শানসি প্রদেশে ঘটে গিয়েছিল এক মহা-বিপর্যয়। বিকট এক ভূমিকম্পে প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রায় ৮,৩০,০০০ মানুষ। মানব সভ্যতার ইতিহাসে সবথেকে ভয়াবহ এবং প্রাণঘাতী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হয় এটি। ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল প্রায় ৮.০ মাত্রার। যা সেই সময়ের দুর্বল পরিকাঠামো দিয়ে তৈরি ঘরবাড়িকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেয়। এমনকি শহর, এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যগুলি মুহূর্তের মধ্যে বিলীন হয়ে যায়। প্রাথমিক ভাবে ভয়ানক দুর্যোগের পরেও দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগ দেখা দেয় সমাজে।

 

 

অনাহার, বিভিন্ন রোগ, সমাজকে আরও বিপর্যস্ত করে তোলে। বিধ্বংসী এই ভূমিকম্পটি হয়েছিল মিং সাম্রাজ্যের জিয়াজিং সম্রাটের শাসনকালে। সে কারণে একে জিয়াজিং ভূমিকম্পও বলা হয়ে থাকে। ভূমিকম্পের কম্পন শুধু শানসি নয়, বর্তমান শানসি, হেনান এবং গানসু প্রদেশেও ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি দক্ষিণ চীনের উপকূল পর্যন্ত এর প্রভাব অনুভূত হয়েছিল। জানা যায়, ভূমিকম্পের সময় ভূপৃষ্ঠে বিশাল ফাটল দেখা দিয়েছিল। সেই ফাটল দিয়ে জল উঠে আসতে থাকে। শহরের প্রাচীর এবং ঘরবাড়ি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। মাটি থেকে জল উঠে আসার জন্য স্থানীয় ইয়েলো এবং ওয়েই নদীতে বন্যা দেখা দেয়।

 

 

বিধ্বংসী এই ভূমিকম্পের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিক ছিল প্রাণহানির বিশাল সংখ্যা। প্রায় ৮,৩০,০০০ মানুষের মৃত্যু। ইতিহাসবিদদের মতে, এই একটি ঘটনায় সারাদিনে যত প্রাণহানি হয়েছিল, তা ইতিহাসের অন্য যেকোনও দিনের তুলনায় বেশি। শানসি প্রদেশে জনসংখ্যার বিরাট অংশ মুহূর্তের মধ্যে প্রাণ হারায়। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ তৎকালীন মিং সাম্রাজ্যকে আরও দুর্বল করে তোলে। একেই মিং সাম্রাজ্য অর্থনৈতিক সঙ্কটে জর্জরিত ছিল তার ওপর বিরাট প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে আরও প্রশস্ত হয় সাম্রাজ্যের পতনের পথ।