নিতাই দে, আগরতলা: ত্রিপুরার গোমতী জেলার উদয়পুরের বেলতলী এলাকায় জোড়া খুন। যা ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, স্বামী নিজের স্ত্রী ও পুত্রকে খুন করার পর নিজেও বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। কী কারণে এই নারকীয় ঘটনা তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর তদন্ত। 

 

রবিবার ভোরে ঘটে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। অভিযোগ, পেশায় শিক্ষক অজিত দাস নিজের স্ত্রী ও পুত্রকে খুন করেন। ঘটনার পর তিনি নিজেও বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। 

 

ঘটনাটি প্রথমে নজরে আসে স্থানীয় বাসিন্দাদের। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে। স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা গুরুতর অবস্থায় অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে গোমতী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। 

 

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। কী কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে গোমতী জেলার মহকুমা পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছে, অভিযুক্ত মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট কোনও কারণ জানা যায়নি। তবে পারিবারিক অশান্তি, না কি অন্য কোনও কারণ সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আপাতত গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। পুলিশ মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছেন। 

 

গত ২০২৪ সালে নভেম্বর আরেকটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। ত্রিপুরায় ছেলের হাতে খুন বাবা। ঘটনাটি ঘটেছিল রাজধানী আগরতলার যোগেন্দ্র নগরের বনকুমারি এলাকায়। জানা গেছে, শনিবার রাতে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অভ্রজিত দাস নামের এক যুবক বাবার থেকে টাকা চেয়েছিল। সেই টাকা দিতে অস্বীকার করেন বাবা। তখনই সজল দাস ও তাঁর ছেলে অভ্রজিত দাসের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। বচসার মাঝে ধারাল অস্ত্র নিয়ে বাবার মাথায় আঘাত করে সে। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সজল দাস। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। 

 

ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য অভ্রজিত থানায় এসে পুলিশকে জানায়, কেউ বা কারা তার বাবাকে ঘরের মধ্যে খুন করেছে। ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে যান মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দেবপ্রসাদ রায় সহ পূর্ব আগরতলা থানার ওসি রানা চ্যাটার্জির নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী। খবর দেওয়া হয় ডগ স্কোয়ার্ড ও ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের। 

 

প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ ছেলে অভ্রজিত দাসকে আটক করে পূর্ব থানায় নিয়ে আসে। তবে এলাকাবাসীদের অভিযোগ কিছুদিন আগে সজল দাস তাঁর নিজের বেশ কিছু বসত জায়গা বিক্রি করেছিলেন। সেই জায়গা বিক্রির টাকা নিয়ে বাবা ও ছেলের মধ্যে প্রায়ই ঝামেলা হত বলে জানা গেছে স্থানীয় সূত্রে। এমনকী, অভ্রজিত প্রায়শই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাবার সঙ্গে ঝামেলা করত। কিছুদিন আগে অভ্রজিত বিয়েও করেছে।