আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিন মজুরের মেয়ে। দিন আনি দিন খাই পরিবারে বেড়ে ওঠা। আর কাছেই কিনা বিশাল অঙ্কের কর ফাঁকির নোটিস! উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলা থেকে এমনই এক চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক ঘটনা সামনে এসেছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গিয়েছে, উন্নাওয়ের এক দিনমজুরের মেয়েকে আয়কর দফতর ২০ কোটি টাকার কর ফাঁকির নোটিশ পাঠিয়েছে। এই নোটিশ পাওয়ার পর দরিদ্র পরিবারটির মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। এই বিশাল অঙ্কের নোটিস দেখে রীতিমত অবাক ও আতঙ্কিত পরিবারের সদস্যরা।
নোটিস পাওয়া ওই রেশ্মি সবিতা নামের যুবতী সংবাদমাধ্যমের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, "আমি আমার গোটা জীবনে একসঙ্গে ২০ হাজার টাকাই দেখিনি। সেখানে ২০ কোটি টাকা কর ফাঁকির নোটিস কীভাবে এল?" নোটিসের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, "ব্যাঙ্ক ছাড়া আমি আমার আধার বা প্যান কার্ড অন্য কোথাও ব্যবহার করিনি। আমি কোনও সংস্থাও খুলিনি, তা হলে আমার কাছে এই নোটিস কেন পাঠানো হল?" বর্তমানে এই পরিবারটি ন্যায়বিচারের আশায় বিভিন্ন সরকারি দফতরে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
উল্লেখ্য, উন্নাওয়ের গিরিজা বাগের বাসিন্দা রেশ্মি সবিতা। স্নাতক উত্তীর্ণ হয়ে রেশ্মি বাড়িতে বসেই দর্জির কাজ করেন। বাবা অজয় শঙ্কর একটি বেসরকারি কারখানায় শ্রমিক। তাঁদের বাড়ির অবস্থা দেখলেই বোঝা যায় চরম দারিদ্র্যের কথা। ঘরে ইটের দেওয়াল। নেই কোনও প্লাস্টার। মেঝেটিও কাঁচা। ঘরের ছাদ ঢাকা একটি ত্রিপল দিয়ে।
গত ৯ মে সেই রেশ্মির বাড়িতেই ডাকযোগে তাঁর নামে আয়কর দপ্তরের চিঠি আসে। প্রথমে তাঁরা বিষয়টি বুঝতেএক আইনজীবীর শরণাপন্ন হন। সেই আইনজীবীই জানান, ২০ কোটি টাকার একটি ট্যাক্স নোটিস এসেছে তাঁদের কাছে। আর তাতেই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে রেশ্মি ও তাঁর পরিবারের।
রেশ্মির আশঙ্কা, তাঁদের সঙ্গে নিশ্চয়ই কেউ প্রতারণা করছেন। এই বিপুল আর্থিক দায়ভার থেকে মুক্ত হতে এবং ন্যায়বিচারের আশায় তিনি ইতিমধ্যেই আয়কর দফতরের পাবলিক গ্রিভেন্স পোর্টাল, স্থানীয় থানা এবং সাইবার সেলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
তবে, আয়কর দফতর থেকে এই ধরনের অসঙ্গতিপূর্ণ নোটিস পাঠানোর ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তাই রেশ্মির নথিপত্র ব্যবহার করে অন্য কেউ কোনও ভুয়ো আর্থিক লেনদেন করেছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।















