আজকাল ওয়েবডেস্ক: বেসরকারি অ্যাপক্যাব সংস্থা ওলা, উবারের মতো সংস্থাগুলির ব্যবসায়িক মডেলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ কেন্দ্রীয় সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহের। কর্পোরেট সংস্থাগুলি চালক ও যাত্রী- উভয়কেই শোষণ করে নিজেদের স্বার্থে মুনাফা বাড়াচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ। এই শোষণের বিকল্প হিসেবেই সম্পূর্ণ সমবায় মডেল এবং চালকদের নেতৃত্বে দেশের প্রথম রাইড-হেইলিং প্ল্যাটফর্ম 'ভারত ট্যাক্সি'-র আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন তিনি। এমনই খবর সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে।
শনিবার গুজরাটের ১৪টি শহরে 'ভারত ট্যাক্সি'র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ জানান, বেসরকারি প্ল্যাটফর্মগুলি চালকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন কেটে নিচ্ছে। সময়মতো টাকা মেটাচ্ছে না। যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে চালকদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই তাঁদের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে। নতুন সমবায় মডেলের মাধ্যমে অগ্রাধিকার পাবেন চালকেরাই। তাঁদের কেবল পরিষেবা প্রদানকারী হিসেবে নয়, বরং এই ব্যবস্থার অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলে এতদিনের সমস্ত সমস্যা মেটানো সম্ভব হবে।
সরাসরি ওলা বা উবারের নাম না নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, "আজ সকাল থেকেই আমি কিছু ফোন পেয়েছি এবং সংবাদপত্রেও দেখেছি যে ভারত ট্যাক্সির ভাড়া নাকি কিছুটা বেশি। আমি দেশের সমস্ত গ্রাহকদের বলতে চাই, ভারত ট্যাক্সি যেখানেই কাজ শুরু করছে, প্রতিযোগী বেসরকারি সংস্থাগুলি সঙ্গে সঙ্গে তাদের ভাড়া কমিয়ে দিচ্ছে। নিজেরা লোকসান করতেও প্রস্তুত হচ্ছে। আমাদের উদ্দেশ্য কাউকে লোকসানে ফেলা নয়। কিন্তু ভারত ট্যাক্সি যাতে বাজারে প্রবেশ করতে না পারে, তার জন্যই তারা এখন সাময়িকভাবে ভাড়া কমাচ্ছে। এমনকি চালকদের বেশি কমিশন দেওয়ার টোপ দিচ্ছে।"
তিনি সতর্ক করে বলেন, "এই সংস্থাগুলি এখন স্বল্পমেয়াদী ক্ষতি সহ্য করে ভারত ট্যাক্সিকে বাজার থেকে তাড়িয়ে দিতে চায়। যাতে পরবর্তীতে তারা আবার নিজেদের ইচ্ছেমতো একচেটিয়া ব্যবসা ও শোষণ চালাতে পারে। তবে ভারতে এই ধরণের কৌশল সফল হবে না। কারণ এ দেশের মূল শক্তিই হল সমবায় ভাবনা।"
'ভারত ট্যাক্সি'র বিশেষত্ব ও কর্মপরিকল্পনা
জিরো-কমিশন মডেলঃ এই অ্যাপে যাত্রীদের ভাড়ার পুরো টাকাই চালক পাবেন। পাশাপাশি চালকরা এই প্ল্যাটফর্মের মালিকানার অংশীদারও হবেন।
পরিষেবার বিভাগ: প্রাথমিকভাবে তিন চাকার অটো-রিকশা, দুই চাকার বাইক এবং চার চাকার গাড়ির (ট্যাক্সি) পরিষেবা মিলবে।
গুজরাটের ১৪টি শহর: আহমেদাবাদ, সুরাট, ভাদোদরা, রাজকোট, দ্বারকা, সোমনাথ, ভালসাদ, আনন্দ, জামনগর, ভাবনগর, নাদিয়াদ, জুনাগড়, মেহসানা এবং আমরেলিতে এই পরিষেবা চালু হয়েছে।
যোগাযোগের নেটওয়ার্ক: যোগাযোগ ব্যবস্থা মজবুত করতে গুজরাট মেট্রো রেল, আহমেদাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন, ট্রাফিক পুলিশ, আহমেদাবাদ-সুরাট-রাজকোট বিমানবন্দর এবং পশ্চিম রেলওয়ের আহমেদাবাদ ডিভিশনের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে 'ভারত ট্যাক্সি'।
অমিত শাহ জানান, আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে কলকাতা, মুম্বাই, পুনে, নাগপুর, লখনউ, চণ্ডীগড় এবং জয়পুরে 'ভারত ট্যাক্সি'র অপারেশন শুরু হয়ে যাবে। পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে দেশের ৫০০-রও বেশি শহর ও মফস্বলে এই সমবায় ট্যাক্সি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।














